ভোটার খরা কাটেনি যানবাহন চলেছে দেদার

উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলায় গতকাল রবিবার ভোট গ্রহণ করা হয়। এখানেও কাটেনি ভোটার খরা। প্রার্থীদের আত্মীয়-স্বজন ও খুব কাছের পরিচিত ভোটার ছাড়া ভোটকেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের দেখা যায়নি। এদিকে গত শনিবার মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিধি-নিষেধ থাকলেও তা মানেননি অনেক ভোটার। এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ছিল উদাসীন। ভোটের দিন সকাল থেকেই দিনভর মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন অবাধে চলাচল করতে দেখা গেছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভোটের আগের দিন মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় প্রায় সব ধরনের যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকে। প্রজ্ঞাপন অনুসারে, মানিকগঞ্জে ২৩ মার্চ রাত ১২টা থেকে ২৪ মার্চ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত ১০ ধরনের যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। যানবাহনগুলোর মধ্যে রয়েছে বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো, মোটরসাইকেল ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন যন্ত্রচালিত যানবাহন।

কিন্তু মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলাতেই ভোটের দিন অনুমোদনহীন বিভিন্ন যানবাহন চলতে দেখা গেছে। সাটুরিয়া উপজেলায় রবিবার সকাল থেকেই মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যান চলাচল করতে দেখা গেছে। রবিবার সকালে তিল্লি, দরগ্রাম, বালিয়াটীরসহ অনেক গ্রাম ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

রবিবার দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটী চৌরাস্তায় আলমগীর নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, ‘আমার বাড়ি একই উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামে। ভোট দিতেই যাইনি। ছুটির দিন থাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়াতে বের হয়েছি।’ এ ব্যাপারে সাটুরিয়া সৈয়দ কালু শাহ কলেজের সমাজবিজ্ঞানের প্রভাষক শামিম আরা বলেন, আগে নির্বাচনের দিন উৎসবের আমেজ থাকত। কিন্তু এখন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি খুব কম থাকে। নির্বাচনটাকে মানুষ আর এত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না বলে দেদার যানবাহন চলছে।

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান ভোটের দিন অনুমোদনহীন যানবাহন চলাচলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমি নিজে সাটুরিয়াতে কয়েকজন মোটরসাইকেল চালককে সতর্ক করেছি।’ তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে বলে জানান তিনি। মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা বাবুল মিয়া বলেন, নির্বাচনের দিন বৈধ পরিদর্শক, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকরা নির্বাচন কমিশনের স্টিকার ছাড়া অন্য সব যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না। আগে সকল নির্বাচনে সংবাদকর্মী ও নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত স্টাফদের মোটরসাইকেল ছাড়া রাস্তায় অন্য কোনো যানবাহন রাস্তায় দেখা যেত না। কিন্তু এবারের উপজেলা নির্বাচনে অনেকেই তা মানছেন না।