পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত বিলুপ্ত গাড়াতি ছিটমহলে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্য রাতে গাড়াতি ছিটমহলকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত ঘোষণা করা হয়। এর পর পরই তৎকালীন ছিটমহল বিনিময় কমিটির সভাপতি মফিজার রহমান বিলুপ্ত ছিটমহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের তোড়জোড় শুরু করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে ঠুটাপাখুরী এলাকার মৃত আজাহার আলীর পুত্র আক্তারুজ্জামান শাহিন ও আমবাড়ি এলাকার মৃত টুকু মিয়ার পুত্র মুসলিম উদ্দিন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত হয়ে পড়েন। এ সময় গাড়াতি এলাকার বাসিন্দা সঙ্গে রেখে একটি আলিয়া মাদ্রাসা, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি কলেজ ও একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় স্থাপন করেন। নামমাত্র কমিটি করে এই চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি মফিজার রহমান নিজেই হন। প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১২-২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নেন কয়েক কোটি টাকা।
কলেজের জমিদাতা সাহাব উদ্দিন জানান, কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ১৫০ শতক জমি নিয়ে তাকে এ কলেজের দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা করার কথা থাকলেও মফিজার রহমান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হন এবং নিজের নামেই কলেজের নামকরণ করেন। বিলুপ্ত ছিটমহল এলাকার বেকার শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের ওই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার কথা থাকলেও কোনোটিই করেননি। বরং একক আধিপত্য বিস্তার করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
নবনির্মিত সায়মা ওয়াজেদ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ‘আপনারা সাংবাদিক মানুষ। আজকালকার যুগে কোনো স্কুলে কি টাকা ছাড়া কারও চাকরি হয়েছে? তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে মফিজার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অনিয়মের বিষয়গুলো অস্বীকার করেন তিনি।
গাড়াতি এলাকার বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম জানান, ‘মফিজার রহমান আমাদের বিভিন্নভাবে শোষণ করেছেন। আন্দোলনের নামে যখনই কোনো মিছিল, মিটিং ও সমাবেশে বা ঢাকা যেতে হতো তখনই বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা কালেকশন করে দেওয়া হতো।’
এ ব্যাপারে মফিজার বলেন, আন্দোলনের সময় অনেকে সহযোগিতা করেছেন। তবে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়।