প্রধানমন্ত্রীর কন্যার নামে ভুয়া এনজিও খুলে প্রতারণা, ৩ ব্যক্তি কারাগারে

নীলফামারীর ডিমলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে ভুয়া এনজিও খুলে প্রতারণা করার অভিযোগে তিন  ব্যাক্তিকে আটক করে  পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরর পর রবিবার বিকেলের দিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর দুর্গম চর জিঞ্জিরপাড়া গ্রাম থেকে তাদের আটক করে এলাকাবাসী।

এরা হলেন, ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছচাপানি ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝুনাগাছচাপানি চৌধুরীপাড়া গ্রামের মৃত আকবর হোসেন চৌধুরীর ছেলে আব্দুল খালেক চৌধুরী (৩৫), রংপুর জেলা শহরের ধাপ এলাকার জিন্নাতুল করিম প্রধানের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন শুভ (২৫) ও রংপুর সদর উপজেলার পশ্চিম গুরাতিপাড়া গ্রামের ছপিয়ার রহমানের ছেলে ফরিদ আলী (২৫)।

এলাকাবাসী জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে এনজিও খুলে বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন অনুদান প্রদানের আশ্বাস দিয়ে  এলাকাবাসীর কাছ থেকে তিন শত করে টাকা নিয়ে ফরম বিক্রি করে আসছিল ওই তিন ব্যক্তি।

এমন আশ্বাসে গত দুই সপ্তাহ ধরে তিস্তা নদীর চর গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ সদস্য ফরম সংগ্রহে ভিড় জমায় ওই তিন ব্যক্তির কাছে।

এলাকার সচেতন লোকজন প্রতারণার বিষটি বুঝতে পেরে তাদের আটক করে প্রথমে টেপাখড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে সোপর্দ করে। পরে ইউপি চেয়ারম্যান এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ওই তিন ব্যক্তিকে ডিমলা থানা-পুলিশে সোপর্দ করেন।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ৪৮/১ ইউসুফ ম্যানসন সপ্তম তলা, মতিঝিল, ঢাকার ঠিকানায় এনজিও খুলে প্রতারণা করে আসছিল ওই তিন ব্যক্তি। তারা বিভাগীয় অফিসের ঠিকানা উল্লেখ করেছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায়। প্রতারণার বিষয়টি এলাকার লোকজন বুঝতে পেরে ওই তিনজনকে আটক করে আমার কাছে নিয়ে আসে। আমি তাদের পুলিশে সোপর্দ করি।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন শেখ জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে একটি ভুয়া একজিও খুলে প্রতারণার মাধ্যমে এলাকাবাসীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আটকের পর তারা পুলিশের কাছে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছে।

এ ঘটনায় ডিমলা থানার উপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে ৪১৭ ও ৪২০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় রবিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।