বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের মিডনাইট নির্বাচনে খাসির মাংস দিয়ে খিচুড়ি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে, কিন্তু কেউ যাচ্ছে না। ভোটকেন্দ্র শূন্য, নির্বাচনে মানুষ যাচ্ছে না। ভোট দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে তারা।’ গতকাল রবিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘মিডনাইট সরকারের এই নির্বাচন নিয়ে কিছু বলার নেই। আমরা নির্বাচন বর্জন করেছি। ভোটার শূন্য নির্বাচন করে তারা আনন্দ পাচ্ছে কি না আপনারা (সাংবাদিকরা) তাদের প্রশ্ন করবেন। এটা জনগণ জানতে চায়।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আলজাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তিনজনকে গুম করার অভিযোগ উঠেছে। প্রচ্ছায়া লিমিটেডের তিন কর্মচারীকে আইনের অপব্যবহার করে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে। সম্প্রতি এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশে আলজাজিরা ব্লক করে দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ থেকে এখন আর তাদের ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। এর মাধ্যমে সরকার আবারও প্রমাণ করল সত্যকে গলা টিপে রাখতে চায় তারা।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাকশাল পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে গণমাধ্যমকে হত্যা করছে তারা। শুধু সত্য প্রকাশের কারণে চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামি টিভি, পিস টিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমার দেশসহ বহু প্রিন্ট মিডিয়া বন্ধ করা হয়েছে। স্বৈরাচার দীর্ঘায়িত হলে নাৎসিবাদের উত্তরণ ঘটে। এ সরকারও নাৎসিবাদের উপাসক।’
রিজভী বলেন, ‘বিরোধী দলবিহীন একতরফা নির্বাচন, মিডনাইট নির্বাচন ইত্যাদির সাফল্যে আত্মহারা হওয়ার জন্যই শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতোই ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের মাথায় আঁধার নেমেছে। আর এ জন্যই তারা গুম-খুনের খেলায় বেপরোয়া ভাব দেখাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ও সরকারবিরোধী অসংখ্য নেতাকর্মীকে এখনো গুম করে রাখা হয়েছে। দেশটাকে এখন শেখ হাসিনা গুমরাজ্য বানিয়েছেন। গুমঘর থেকে কেউ কেউ সৌভাগ্যক্রমে ফিরে এলেও অনেকের স্ত্রী-সন্তান-মা-বাবা-স্বজনরা দিনরাত চোখের পানিতে বুক ভাসাচ্ছেন হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের জন্য। তারা কার কাছে বিচার চাইবে, কার কাছে যাবে?’