বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম এক ম্রো নারীকে জড়িয়ে ধরার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ওই নারী। রোববার তাকে জড়িয়ে ধরার দুটি ছবি ভাইরাল হয় ফেসবুকে। তীব্রভাবে সমালোচিত হন আবুল কালাম।
অসুস্থ বোধ করলে (মাথা ঘুরে পড়ে যেতে চাইলে) তাকে চেয়ারম্যান জড়িয়ে ধরেন বলে ওই নারী জানান।
তবে সোমবারই বিরোধীপক্ষ ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ নিয়ে নির্দোষ এই ছবি ছড়িয়ে কুৎসা রটনা করছে বলে দাবি করেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম।
সোমবার বিকেলে বান্দরবানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও একই কথা বলেন ওই নারী। তার নাম রুমপাও মুরং। তবে তিনি বাংলা বলতে পারেন না। তার ভাই মেনরুম মুরং বাংলায় রুমপাওয়ের ভাষ্যে সেদিনের ঘটনার বিবরণ দেন।
তিনি বলেন, জনাব আবুল কালামের সঙ্গে আমাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আছে। আমরা তাকে অসাম্প্রদায়িক ও সৎ, চরিত্রবান ব্যক্তি হিসেবে জানি। বিজয়ী হওয়ার পর আমরা পাড়াবাসী আবুল কালামকে নিজ পাড়ায় সংবর্ধনা দিই।
রুমপাও মুরং বান্দরবানের আলীকদমের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মেরিনচর পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মেনসিং মুরং। আবুল কালামের পক্ষে নির্বাচনে তিনি কর্মী হিসেবে অনেক পরিশ্রম করেছেন বলে জানান। যে কারণে বিজয়ের পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে ওই পিরবারের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, সংবর্ধনা চলাকালে আমি অন্যদের মতো চেয়ারম্যানকে মালা দিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে খুশিতে কান্না করে ফেলি। একপর্যায়ে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার সময় চেয়ারম্যান মহোদয় আমাকে ধরে না ফেললে আমি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হতাম।
রুমপাওয়ের ভাই আরো বলেন, পাশাপাশি চেয়ারম্যান আমার কান্না থামানোর জন্য আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আমার পরিবারের মা-বাবা-ভাই এবং পরিবারের অন্য সদস্যরাসহ দুই শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যানকে (আবুল কালাম) আমি ও আমার ভাইয়েরা আপন বড় ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধা করি এবং তিনি আমাদের ছোট বোনের মতো জানেন। তার মধ্যে আমি বা আমরা কখনো খারাপ প্রবৃত্তি দেখিনি।
রুমপাওয়ের বরাত দিয়ে তার ভাই আরো বলেন, আমি জানতে পেরেছি আমার ও চেয়ারম্যান আবুল কালামের ছবিসহ কিছু ছবি চেয়ারম্যান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের আইডি থেকে পোস্ট করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের কিছু লোক ও প্রতিক্রিয়াশীল চক্র আমার ছবিকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিকৃতভাবে মন্তব্য করেন যা আমার আত্মসম্মানে আঘাত লাগে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, আমার ছবিগুলো ভাইরাল করার আগে বা গণমাধ্যমে প্রকাশের আগে আমার ও পরিবারের বক্তব্য নেয়া উচিত ছিল।
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল কালাম গত ১৮ মার্চ আলীকদম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগের প্রার্থী জামাল উদ্দিন।
আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিক উল্লাহ বলেন, চেয়ারম্যান সাহেবের কয়েকটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো পক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করে তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর লোকজন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু উগ্র সাম্প্রদায়িক লোকজন এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখানে সহিংসতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তারাই ফেসবুকে এ ঘটনাটি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। এটা খুবই দুঃখজনক।’