নওগাঁর ধামইরহাটে অসহায় ব্যক্তিদের ১৬টি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত রবিবার মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে ঘরগুলো পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর কাগজকুটা গ্রামের পুকুরপাড়ে ৩৫টি ঘর নির্মাণ করেন ওই এলাকার কিছু সংখ্যক লোক। এর মধ্যে ২০টি ঘর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের। নিজেদের ভূমিহীন এবং ওই জমি খাস দাবি করে প্রায় দেড় মাস আগে লোকজন সেখানে টিনের ছাউনি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। গত রবিবার দিনগত রাত ১টার দিকে মুখোশ পরা ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ১৬টি ঘর পুড়ে যায়।
দুর্বৃত্তদের হামলায় ঘর হারানো লগেন পাহান বলেন, রাতে মুখোশধারী লোকজন তাদের ঘরে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তাদের ধান, চাল, কাপড়চোপড়, হাঁস-মুরগি, ছাগল, টাকা ও মুঠোফোন পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত শান্তি পাহান বলেন, সন্ত্রাসীদের হাতে হাঁসুয়া, কুড়াল, তীর-ধনুক, লাঠি ও পেট্রলের বোতল ছিল। দুর্বৃত্তরা তাদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে শান্তি পাহান ও তার ছেলে আকাশ আহত হন। পরে বস্তাবর বিজিবি ক্যাম্পের টহলদল এগিয়ে এলে দুবর্ৃৃত্তরা পালিয়ে যায়।
এদিকে ওই জমি নিজেদের দাবি করেন বস্তাবর গ্রামের আকতার হোসেন ও তার ছেলে মোশারফ হোসেন মিস্টার। মোশারফ হোসেন মিস্টার বলেন, দীর্ঘদিন তাদের দখলে থাকা জমিতে হঠাৎ করে কতিপয় লোক অবৈধভাবে দখলের জন্য ছোট ছোট ঘর নির্মাণ করে। বিষয়টি নিয়ে চলতি মাসে থানায় মামলা হয়। এ ছাড়া ওই জমিতে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
আকতার হোসেন বলেন, আদালতের আদেশ অমান্য করে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ওই সব বাড়িঘরে তিনি বা তার কোনো লোক আগুন দেননি।
ধামইরহাট থানার ওসি জাকিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে থানায় কেউ মামলা করতে আসেনি। মামলা হলে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।