রাজধানীয় উত্তরায় বাসায় এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) কম্প্রেশার মেশিন বিস্ফোরণে দগ্ধ আলমগীর-বিলকিস দম্পতি মারা গেছেন। সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গত রবিবার দুপুরে আলমগীর ভূঁইয়া এবং গতকাল সোমবার দুপুরে বিলকিস ফারজানার মৃত্যু হয়।
গত ১৮ মার্চ রাত ২টার দিকে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের বাসায় এয়ার কন্ডিশনারের কম্প্রেশার মেশিন বিস্ফোরণে দগ্ধ হয় এই দম্পতি। তাদের শরীরে ৯৫ শতাংশ পুড়ে যায়। আলমগীর বিমানবন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও তার স্ত্রী বিলকিস উত্তরা পশ্চিম থানা মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
ঢামেক বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল জানান, স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। প্রথম থেকেই তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। এই অবস্থা থেকে রোগীর ফিরে আসাটা ছিল প্রায় অসম্ভব।
আলমগীররের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজার উপজেলার ছোট ফাউসা গ্রামে। তার বড় ছেলে রাইয়ান ফেরদৌস রাতুল চট্টগ্রামে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী। মেয়ে আভা স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকেন ঢাকার আশকোনা এলাকায়। আভা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এলএলবি ফাইনাল ইয়ারে পড়েন।
একসঙ্গে মা-বাবাকে হারিয়ে ঢামেক বার্ন ইউনিটের সামনে বিলাপ করছিলেন মেয়ে আভা। তাকে সান্ত¡না দেওয়ার চেষ্টা করছিল সবাই। আভা বলছিলেন, ‘চলে যাওয়ার আগে বাবার চেহারাটাও নুরের মতো হয়ে গেছিল। মৃত্যুর আগে বাবা কেমন একটা মুচকি হাসি দিল, এরপরেই মারা গেল।’
ছেলে রাইয়ান ফেরদৌস রাতুল বলছিলেন, ‘বাবা-মা দুজনে একসঙ্গে চলে গেলেন কেমন করে! একি কোনো দুঃস্বপ্ন!’
আলমগীরের ছোট ভাই তানজিল শাহরিয়ার বলেন, ‘গত ১৮ মার্চ রাত ২টায় পুরান ঢাকার একটি অনুষ্ঠান শেষে তারা দুজন বাসায় ফেরেন। এরপর রুমের এসি চালু করেন তারা। এর কিছুক্ষণ পরই বিকট শব্দে তাদের রুমের এসির কম্প্রেশার মেশিন বিস্ফোরণ হয়।’