কোন পথে গ্রূপ থিয়েটার

আজ ২৭ মার্চ বিশ্ব নাট্য দিবস। ১৯৬২ সাল থেকে সারা বিশ্বে প্রতি বছর এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে। ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশে নানা আয়োজনে দিনটি পালিত হয়। এ বছরও বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের শিল্পীরা দিনটিকে নানা আয়োজনে উদযাপন করবে। এ দিনটিকে ঘিরেই দেশ রূপান্তর সাজিয়েছে এই আয়োজন। গ্রন্থণা করেছেন পাভেল রহমান।

রেপার্টরি থিয়েটার নিয়ে বিভ্রান্তি আছে

সৈয়দ জামিল আহমেদ

নাট্যশিক্ষক ও নির্দেশক

আমাদের থিয়েটার শিল্পীরা নাটক ভালোবাসেন, সেটা করতেও চান। কিন্তু অফিস শেষ করে, যানজট ঠেলে রাত ৯টার সময় ক্লান্ত শরীরে তিনি মহড়ায় আসেন। তার বাড়িতে ফেরার তাড়া থাকে, সংসার সামলাতে হয়। এসব চাপের কারণেই আমরা পারিনি। প্রতিনিয়ত একটু একটু করে ছাড় দিতে দিতে মঞ্চনাটক আজকের এই অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। আমরা যদি পেশাদার অবস্থানটা ঠিক রাখতে পারতাম, তাহলে লোকে আমাদের নাটক দেখতে আসত। পেশাদার কণ্ঠশিল্পী বা নৃত্যশিল্পীরা সকালে ঘুম থেকে উঠে নিয়ম করে তিন-চার ঘণ্টা রেওয়াজ ও চর্চা করেন। আমাদের থিয়েটারকর্মীদের সেই সময় নেই। আমাদের এখানে রেপার্টরি থিয়েটারের চর্চা হচ্ছে। কিন্তু রেপার্টরি থিয়েটার নিয়ে আমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি আছে। রেপার্টরি থিয়েটার মানেই তাদের নিজেদের একটি হল থাকবে। দুই বা এক বছরের চুক্তিতে তারা অভিনেতাদের নিয়োগ দেবেন। বাড়ি থেকে পরিচালককে ডেকে এনে নাটক পরিচালনা করাবেন। তারপর দুই বা তিনটি নাটক সারা বছর ধরে প্রদর্শনী করতে থাকবে। আমাদের এখানে সেই অর্থে কোনো রেপার্টরি কোম্পানি তৈরি হয়নি।

 থিয়েটারশিল্পীর জীবিকা নির্বাহের দায়িত্ব রাষ্ট্রের নেওয়া উচিত

জ্যোতি সিনহা অভিনেত্রী

গ্রুপ থিয়েটার চর্চা অব্যাহত রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সবাই তো নানামুখী কর্মব্যস্ততার পর আসেন থিয়েটার করতে। জীবিকার জন্য নানারকম কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে হয় থিয়েটারশিল্পীদের। এরপর কিছুটা সময় থিয়েটার করেন। এটা আসলে সময়ের দাবি। আমি এখন ফেরদৌসী মজুমদারের লেখা ‘অভিনয় জীবন আমার’ বইটি পড়ছি। ফেরদৌসী আপাদের সময় যেভাবে গ্রুপ থিয়েটার চর্চা হয়েছে, এখন সেটা করা কঠিন। আমার নিজের জীবন থেকেই সেটা উপলব্ধি করি। এজন্য রাষ্ট্রেরও ভূমিকা আছে। থিয়েটারশিল্পীরা সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটা করেন। তাদের জীবিকা নির্বাহের দায়িত্ব তো রাষ্ট্রের নেওয়া উচিত। যদি থিয়েটার করেই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা যেত তখন অনেক থিয়েটারশিল্পীই পুরোটা সময় থিয়েটারে মনোনিবেশ করতে পারতেন। অন্য অনেক কাজের পর থিয়েটার যেন পার্টটাইম চর্চার অংশ হয়ে আছে। অথচ এটা ফুলটাইম চর্চার অংশ না করতে পারলে থিয়েটারের মান উন্নত হবে না।

গ্রুপ থিয়েটার তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের পথে বিভ্রান্ত

বাকার বকুল

নির্দেশক

গ্রুপ থিয়েটার চর্চা পথ হারাচ্ছে কি না সঠিক করে বলতে পারব না। তবে গ্রুপ থিয়েটার তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের পথে বিভ্রান্ত, নিশ্চিত করে বলা যায়। সময়ের সঙ্গে তার গতিবিধি পেছনের দিকে ধাবমান। থিয়েটার এখন ক্লাব ঘরের আদল পেয়েছে। নাট্যচর্চার চেয়ে অন্য অনেক কিছুর চর্চা যেন প্রাধান্য পেয়েছে। তবে কেউ কেউ এখনো থিয়েটার চর্চার স্বপ্নটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এখন আমাদের নাট্যশিল্পীরা পেশাদার থিয়েটার চর্চার স্বপ্ন দেখছেন, কেউ কেউ রেপার্টরি থিয়েটার চর্চার মধ্যে পেশাদারিত্বের স্বপ্ন বুনছেন। এক্ষেত্রে সফলতা এখনো আসেনি। পেশাদার থিয়েটার দল সেভাবে গড়ে ওঠেনি। পেশাদার থিয়েটার চর্চার জন্য রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি।