গত কয়েক মাস ধরে অনেকবার বিরোধিতা ও অপমানের শিকার হয়েছেন টেরিজা মে। তবে গত সোমবার রাতে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব রক্ষা করতে পেরেছেন। যদিও ব্রেক্সিটের ওপর নিয়ন্ত্রণ পার্লামেন্টকেই ছেড়ে দিতে হয়েছে তাকে। সে নিয়ন্ত্রণ ফেরত পেতে কী করবেন, সেই প্রশ্নই এখন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সামনে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সক্ষম হবেন কি না, তা আগামী দিনগুলোতে তার কর্মকাণ্ডই বলে দেবে। তার তৎপরতা যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎও নির্ধারণ করবে।আজ বুধবার বেশ কিছু বিষয়ে পার্লামেন্টে ভোটাভুটি দেখবেন মে। এর আগে ব্রেক্সিট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চুক্তি দুবার প্রত্যাখ্যান করেন যুক্তরাজ্যের আইন প্রণেতারা। আজ তারা ব্রেক্সিটের জন্য ‘প্ল্যান বি’ নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন।
পার্লামেন্টে মের চুক্তির নমনীয় ভার্সনগুলো নিয়ে ভোট হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্তরাজ্য কাস্টমস ইউনিয়নগুলোতে থাকবে কি না। এ ছাড়া এতকিছুর পরও ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্য বিচ্ছেদে যাবে কি না, তা নিয়েও ভোট হতে পারে। দুটি বিষয়ের কোনোটিই পছন্দ নয় মের কনজারভেটিভ পার্টির ব্রেক্সিটপন্থিদের। যদিও মের পরিকল্পনায় তাদের বিরোধিতা পার্লামেন্ট পর্যন্তই পৌঁছাতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় মের ভবিষ্যৎ এখন টিকে আছে তার আগের শত্রুদের ওপর।
চলতি সপ্তাহে মে ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে গেলেও আগামীর প্রক্রিয়াগুলোতে তার কিছু ক্ষমতা আছে। তিনি বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইইউর দপ্তরে আবার গিয়ে ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলাপ করতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি আজ যুক্তরাজ্য সময় সন্ধ্যার ইঙ্গিতমূলক ভোটকে বাধ্যতামূলকভাবে মান্য করা আটকাতে পারেন।
ইঙ্গিতমূলক ভোটে পার্লামেন্ট সায় দেওয়ায় গত সোমবার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয় টেরিজা মের নেতৃত্বাধীন সরকার। এতে সতর্ক করে বলা হয়, এই ভোট ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক নজির নিয়ে আসবে।
ব্রেক্সিটের এই পর্যায়ে এসে পার্লামেন্টের ইচ্ছা উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে মের সুনাম ক্ষুণœ হবে। মের নিজের চুক্তিও এখনো ভেস্তে যায়নি। তাত্ত্বিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী এখনো ব্রেক্সিট নিয়ে নমনীয় চুক্তিতে ইইউ নেতাদের সঙ্গে একমত হতে পারেন। আর এটিকে তিনি ব্রেক্সিটপন্থি ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) সমর্থন আদায়ে কাজে লাগাতে পারেন।
বাস্তবে উল্লিখিত কৌশলও উচ্চ ঝুঁকিতে আছে। গত সোমবার বেক্সিটপন্থি কনজারভেটিভ পার্টির কিছু আইন প্রণেতা জোর দিয়ে বলেন, তারা আর মের চুক্তির পক্ষে ভোট দেবেন না। তবে ইউরোপিয়ান রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) চেয়ারম্যান জ্যাকব রিস-মগ ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন দৃশ্যত মের পরিকল্পনায় সমর্থন দিচ্ছেন।
গত সপ্তাহে ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর আগামী ২২ মে যুক্তরাজ্যের ইইউ ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হন মে। তবে ব্রেক্সিটপন্থি জ্যেষ্ঠ নেতাদের দাবি, তাদের ভোটের বিনিময়ে মেকে ইইউ ছাড়ার নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে হবে।