যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলাগুলোর পর দেশটির জাতীয় রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন কীভাবে জনমতকে প্রভাবিত করে তা নিয়ে সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আলজাজিরা। প্রতিবেদনটি তৈরিতে সংবাদমাধ্যমটির একজন সাংবাদিক গত তিন বছর গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়; অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থি দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলভুক্ত দেশগুলোর শক্তিশালী অস্ত্র আইনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের (এনআরএ) কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েশন প্রশ্নের সদুত্তর না দিয়ে কীভাবে অস্ত্র ব্যবসা চালাতে জনমতকে প্রভাবিত করে অস্ত্র আইন পাল্টানো যায়, তা বলা হয়। ১৯৯৬ সালে এক বন্দুক হামলার ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়া সরকার কঠোর অস্ত্র আইন জারি করে। কিন্তু এনআরএ অস্ট্রেলিয়ার আইনের বিরোধিতা করে। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয়তাবাদী দল ওয়ান ন্যাশনের চিফ অব স্টাফ জেমস অ্যাশবে এবং দলের কুইন্সল্যান্ড শাখার নেতা স্টিভ ডিকসন গত বছর ওয়াশিংটন ডিসিতে যান। এ সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের বন্দুক লবি সমর্থকদের কাছ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার রাজনৈতিক সহায়তার প্রত্যাশা করেন। ওই সফরে এনআরএর পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ার ওই দুই নেতাকে তাদের দেশের অস্ত্র আইন পরিবর্তন করতে জনসমর্থন আদায় করতে বলা হয়। এ সময় এনআরএ এই সমর্থন আদায়ে কোনো ‘গণহত্যার’ পর সংবাদমাধ্যমকে কিছু না বলার পন্থা শেখায়। এরপরও গণহত্যা নিয়ে তদন্ত হলে আক্রমণাত্মক যোগাযোগ কৌশল প্রয়োগের পদ্ধতিও শেখানো হয় তাদের। এ সময় এনআরএর সদস্য লার্স ডালসেইড এই পদ্ধতি শেখাতে গিয়ে বলেন, ‘আপনাদের নীতি অতটা ভালো নয় যে আমাদের বিপক্ষে দাঁড়াবে। আপনাদের কীভাবে সাহস হয় মৃত্যুকে আইন প্রভাবিত করতে ব্যবহার করেন। কীভাবে আপনি শিশুদের কবরের ওপর দাঁড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা পূর্ণ করার চেষ্টা করছেন।’ লার্সের এক পদ্ধতিপূর্ণ বক্তব্যের বিপরীতে ডিকসন বলেন, ‘আমার এটা পছন্দ হয়েছে, ধন্যবাদ।’ এরপর ডাসসেইড আরও বলেন, ‘আমরা চাই যারা ডাকাতি, হামলা, দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তাদের সংবাদ প্রকাশিত হোক বেশি। ফলে তারা যেন অস্ত্র রাখতে রাজি হয়। আর এটাই হবে সংবাদের অ্যাঙ্গেল। সপ্তাহে দুই থেকে পাঁচটি এমন রিপোর্ট করতে হবে।’ এনআরএর মিডিয়া কর্মকর্তা ক্যাথরিন মরটেনসন বলেন, ‘আমরা স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে অতিথি কলাম লেখকদের সুযোগ দেই। ওই কলামগুলো স্থানীয় পর্যায়ে বেশ জনপ্রিয় হয়। কিন্তু লেখাগুলো কেমন হবে তা পেছন থেকে নির্ধারণ করে দেওয়াই আমাদের কাজ।’