কুমিল্লায় পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত রিয়া ও ইয়াসমিনের পরিবারে শোকের মাতম চলছেই। রিয়া সকালে কিছু না খেয়েই স্কুলে রওনা হয়েছিল স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণের জন্য। বাড়ি ফিরে নাশতা খাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু পথেই প্রাণ গেল রিয়ার।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, শোকাহত রিয়ার পরিবার তাদের মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো মামলা করতে রাজি হয়নি এবং ময়নাতদন্ত করতেও অনিচ্ছা প্রকাশ করে।
অন্যদিকে, একই দিন ট্রাক্টরচাপায় নিহত চান্দিনা কুটুম্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ইয়াসমিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা পাগলের মতো বুক চাপড়ে মাতম করছেন।
গতকাল বুধবার বিকেলে চান্দিনার নাজিরপুর গ্রামে জানাজার পর বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয় ইয়াসমিন। এর আগে দুপুর ২টায় ময়নাতদন্তের পর তার লাশ বাড়ি নিয়ে আসে পরিবার। লাশবাহী গাড়ি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে শোকের ছায়া নেমে আসে গ্রামজুড়ে। সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী, শিক্ষক ও সহপাঠীরা। পুরো এলাকা হয়ে পড়ে শোকে বিহ্বল।
একমাত্র ছোট বোনকে হারিয়ে বড় ভাই কামরুল বিলাপ করছিলেন, ‘সাড়ে চার বছর আগে বাবা মারা যায়। পড়াশোনা করতে পারিনি। তাই খুব স্বপ্ন ছিল একমাত্র বোনটাকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করব। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর ইয়াসমিনও আমাদের ছেড়ে এভাবে চলে যাবে, ভাবতে পারিনি।’
ইয়াসমিনের শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, ‘ইয়াসমিন নেই এটা ভাবতেই পারছি না। গত পরশু তাকে ডেকে বললাম, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করো। তোমাকে নিয়ে ভাইদের অনেক স্বপ্ন। সে মনে রাখার মতো একজন ছাত্রী ছিল। সবার সঙ্গে মিশত, খেলত আর ছুটত। তবে স্বাধীনতা দিবসে সড়কে প্রাণ গেল ইয়াসমিনের, এই বিষয়টি সবাইকে খুব মর্মাহত করেছে।’
এদিকে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আটক হওয়া ট্রাক্টরচালক মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন ইয়াসমিনের বড় ভাই কামরুজ্জামান। চান্দিনা থানার ওসি আবুল ফয়সল মামলার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ট্রাক্টরচালককে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।