দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে ভোজ্যতেলের দাম কমেছে আরেক দফা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে নিম্নমুখী তেলের দাম। এর প্রভাব পড়ছে দেশেও।
খাতুনগঞ্জের ভোজ্যতেলের ব্যবসায়ী আমির আলী বলেন, বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। এই দুই দেশে পাম অয়েলের মজুদ গত বছরের নভেম্বর থেকে বাড়ছে। মজুদ কমাতে রপ্তানি বাড়িয়েছে তারা। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়েনি। আর দেশে কমছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ ভোজ্যতেলের দাম রকমভেদে ৩০ টাকা কমেছে বলে জানান তিনি। গতকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি মণ পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০ টাকায়। গত সপ্তাহে এ দর ছিল ২ হাজার ৪০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি মণ সুপার সয়াবিনের দাম ৩০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৩০ ও সয়াবিন ২ হাজার ৯০০ টাকায়। গত সপ্তাহে যা ছিল ২ হাজার ৯৫০ টাকা।
খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সয়াবিন তেল ৮৬, সুপার পাম অয়েল ৭৪, পাম অয়েল ৬৫ দরে বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের দাম কমলেও অপরিবর্তিত আছে অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে নানা ভোগ্যপণ্যের বুকিং রেট দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকায় দেশের বাজারে তা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত সপ্তাহের মতোই এখন প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায়। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৫-১৮, রসুন ৭০, আদা ১০০ টাকা দরে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুদের কারণে ভোগ্যপণ্যের দাম সবার নাগালে।
গতকাল খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছোলা, মসুর, মটর, খেসারি ও বুটের ডাল, চিনি এবং ভোজ্যতেল আমদানি ও সরবরাহ বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা প্রতি মণ ছোলা দুই সপ্তাহ ধরে বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ২ হাজার ২০০-২ হাজার ৫০০ টাকায়।
এ ছাড়া মণপ্রতি চিনি ভোক্তারা কিনছেন ১ হাজার ৭৬০ টাকায়। দুই সপ্তাহ ধরে মসুর, মুগ, মটর বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে সাড়ে ৩ হাজার, ৩ হাজার ৭০০ ও ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে।