অটল বিহারি বাজপেয়ি মারা যাওয়ার পর বিজেপির সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি দেশটিতে গেলেও এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছেন, যাতে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ দিনকে দিন বাড়ছে। কিছুদিন আগে তো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি গেল। এমন অবস্থায় জিন্নাহ ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফাহাদ হুমায়ূন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ফরেন পলিসি’তে লেখা একটি কলামে পাকিস্তান থেকে মোদির জয় না চাওয়ার কয়েকটি কারণের কথা বলেছেন।
ফাহাদ বলছেন, ২০১৫ সালের পর থেকে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়ছে। ভারতের জাতীয় নির্বাচনের আগে সেই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। নির্বাচন সামনে রেখে মোদি পাকিস্তান ইস্যুকে বারবার সামনে আনছেন। ভারতীয়দের মধ্যে পাকিস্তান বিদ্বেষ উসকে দিচ্ছেন। অর্থনৈতিক অবরোধের পাশাপাশি পানি বণ্টন নিয়েও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।
সম্প্রতি পুলওয়ামা হামলাকে ইস্যু করে মোদি সরকার আরও প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে। জঙ্গিদের বিষয়ে পাকিস্তান প্রমাণ চাইলে ভারত দিতে রাজি হয়নি। উল্টো তারা পাকিস্তানকে দোষারোপ করেছে। ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমান ধরা না পড়লে, আর পাকিস্তান যদি তাকে ফেরত না দিত তাহলে যুদ্ধই লেগে যেত। মরত দুই দেশের সাধারণ মানুষ। ভেতর দিয়ে ভোটের আগে পাবলিক সেন্টিমেন্ট নিজের দিকে নিয়ে নিতেন মোদি।
এসব কৌশলের পাশাপাশি কংগ্রেসকে পাকিস্তান-পন্থী বানাতে উঠেপড়ে লেগেছে বিজেপি। কয়েক দিন আগে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা কংগ্রেসকে খোঁটা দিয়ে বলেন, ‘দিওয়ালি উদ্যাপন পাকিস্তানে শুরু হতো, যদি কংগ্রেস ভোটে ভালো করত।’
পাকিস্তান নিয়ে বিজেপির এমন অবস্থান খুব বেশি দিনের নয়। আগে আড়ালে-আবডালে পাকিস্তানকে তারা ভোটের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলেও ইদানীং সেটি প্রকাশ্য রূপ পেয়েছে। এটি হয়েছে মূলত ২০১৮ সালের আগস্টের পর। ওই সময় অটল বিহারি বাজপেয়ি মারা যান। বেঁচে থাকতে মোদির মতো পাকিস্তান বিরোধী অবস্থান তাকে নিতে দেখা যায়নি।
দিল্লি থেকে লাহোর বাস সার্ভিস চালু করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়। পাকিস্তান থেকে অভিনেতা, গায়ক, লেখকদের ভারতে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ভারতীয় সিনেমাও সে সময় পাকিস্তানে অবাধে চলত।
অথচ মোদির আমলে পাকিস্তানি শিল্পীরা ভারতে দিনকে দিন ব্রাত্য হয়ে পড়ছেন। সরকারের কারণে দুই দেশ ক্রিকেট পর্যন্ত খেলতে পারছে না। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে পাকিস্তান মনে করছে, বিজেপি আবার ক্ষমতায় আসলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হবে।