প্রথম বেতন দিয়ে মায়ের জন্য শাড়ি কেনা হলো না আবীরের

‘মা, এবার বেতন পেয়ে সবার জন্য নতুন কাপড় কিনে বাড়ি ফিরব’। ছেলে আনজীর সিদ্দিক আবীর কথা রাখতে পারেনি। বনানীর আগুনে পুড়ে লাশ হয়ে আবীর ফিরেছে শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিমাখা লালমনিরহাটের পাটগ্রামে। 

মুঠোফোনে মায়ের সঙ্গে ওটাই ছিল আবীরের শেষ কথা। পুরো কথা শেষ না হতেই বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনের লেলিহান শিখায় বলি হয় আনজীর সিদ্দিক আবীর (২৪)।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভবনের ১৬তলায় আবীরের লাশ উদ্ধার হয়। পরে তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজে শনাক্ত করেন স্বজনরা। মা তাসরিফা খানম তামান্না পাটগ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা, বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। দুই ভাইয়ের ছোট সাংসারে আবীর সবার ছোট। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কলেজ রোড এলাকার টগবগে যুবক  আবীর চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে ঢাকার মিকা সিকিউরিটিস লিমিটেডে সহকারী ম্যানেজার পদে যোগ দেন।  বনানীর এফ আর টাওয়ারে ১৪তলায় তার অফিস ছিল। 

আবীরের অকালমৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পুরো পাটগ্রাম উপজেলা। বিকেলে আবীরের লাশ এলাকায় পৌঁছালে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পাটগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় আবীরকে। 

আবীরের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকার বহুতল ভবন সুরক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন,  যাতে আর কোনো মায়ের কোল খালি না হয়।