শরীয়তপুরে ৬ কিলোমিটার সড়কের ৩ সেতু ভাঙা

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নশাসন-জপসা সড়কের তিনটি সেতু ভাঙা থাকায় দুই বছর ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। একটি সেতু দুই বছর আগে বন্যায় বিধ্বস্ত হয়। আর দুটি সেতুর রেলিং ভেঙে যাওয়ায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সড়কটি সংস্কার করা হলেও সেতু তিনটি সংস্কার করা হয়নি। শুধু সেতু সংস্কারের অভাবে এ পথে চলাচলকারী ১০ গ্রামের মানুষকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ।

উপজেলার নশাসন, জপসা, রাজনগর ও ভোজেশ্বর ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের জন্য একমাত্র সড়কটি ২০১০ সালে পাকা করা হয়। সে সময় নির্মাণ করা হয় তিনটি সেতু। নশাসন-জপসা সড়কটি ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের মাঝিকান্দি থেকে ভোজেশ্বর-মাঝিরহাট সড়কে গিয়ে মিশেছে। ওই সড়ক ধরে গ্রামের মানুষ বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা শহর, উপজেলা শহর ও রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করেন। কৃষিপ্রধান ওই গ্রামগুলোর কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার একমাত্র ভরসা এ সড়ক। কিন্তু দুই বছর ধরে ওই সড়ক দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

২০১৬ সালে বন্যার পানির তোড়ে নশাসন-জপসা সড়কের মাঝিকান্দি এলাকার সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা হেঁটে চলাচলের জন্য বাঁশের একটি সাঁকো তৈরি করেন। ওই সড়কের কান্দাপাড়া এলাকায় দুটি সেতুর রেলিং ভেঙে গেছে। সেতুর দুই প্রান্ত থেকে মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু সেতু তিনটি সংস্কার না করেই নশাসন-জপসা সড়কের ছয় কিলোমিটার এলাকা সংস্কারকাজ শুরু হয়।

নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী সুপ্রিয় মুখার্জি বলেন, নশাসন-জপসা সড়কের ছয় কিলোমিটার সংস্কার করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সেতু তিনটি সংস্কারের কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। কিন্তু যানবাহন চলাচল করতে না পারলে রাস্তা পাকা করে কী হবে, সেটা জানে না এলাকাবাসী। নড়িয়ার নশাসন ইউনিয়নের মালতকান্দি গ্রামের কৃষক আবদুল মালেক বলেন, ‘আগে মাটির সড়ক ছিল, আমরা একভাবে চলাচল করতাম। এরপর পাকা করা হলে ছোট গাড়ি চলাচল শুরু হয়। বেশ ভালোভাবেই চলাফেরা করতাম। এখন সেতুগুলো ভেঙে যাওয়ায় কোনো গাড়ি গ্রামে আসতে পারে না। আমাদের হেঁটে চলাচল করতে হয়।’ তিনি জানান, কৃষিপণ্য মাথায় করে আনা-নেওয়া করতে হচ্ছে, যা খুবই কষ্টকর ও ব্যয়বহুল।

মাঝিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ধলু মিয়া বলেন, গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। অসুস্থ শরীর নিয়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ চলা যে কত কষ্টকর, তা অন্য কেউ বুঝবে না। এ ভোগান্তি কবে শেষ হবে, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

জপসা ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতু তিনটি কী কারণে মেরামত করা হচ্ছে না, সেটা তার বোধগম্য নয়।