ফায়ার সার্ভিসে শিগগির আধুনিক যন্ত্র : প্রধানমন্ত্রী

ফায়ার সার্ভিসকে দ্রুততার সঙ্গে আধুনিকায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় তিনি এ কথা জানান বলে সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য দেশ রূপান্তরকে অবহিত করেন।

তারা বলেন, সভায় ফোরামের অধিকাংশ সদস্য বনানীরসহ বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ড, দ্রব্যমূল্য ও দলের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। আলোচনায় ছিল উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলীয় কোন্দালও। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা ফায়ার সার্ভিসকে আরও উন্নত, আধুনিক যন্ত্রপাতিতে সমৃদ্ধ করতে পরামর্শ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় সভাপতি বলেন, বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং

             

কোড যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। অগ্নিদুর্ঘটনাসহ সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে ভবন মালিক ও ব্যবহারকারীদের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাসমূহের কঠোর নজরদারি বাড়ানোসহ জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

নেতাদের ভাষ্যমতে শেখ হাসিনা আরও বলেন, অগ্নিনির্বাপণের জন্য আধুনিক সকল যন্ত্রপাতি শিগগিরই যুক্ত হবে ফায়ার সার্ভিসে। দ্রুততার সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ সময় শেখ হাসিনা দাবি করেন, ফায়ার সার্ভিস যতটুকু সমৃদ্ধ হয়েছে তা তার সরকারের আমলেই হয়েছে। এর আগে এই প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম তলা ভবনের আগুন নির্বাপণের ক্ষমতাও ছিল না। শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫-পরবর্তী সরকারগুলো ক্ষমতায় এসেছে নিজেদের আখের গোছাতে, দেশের উন্নয়নে নয়।

সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বক্তব্য রাখলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত বছর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কী ছিল একটু চেক করে দেখেন। সে তুলনায় এ বছর এখনো বাড়েনি।’

সভায় দলের জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূলের জেলা-উপজেলার সম্মেলন শেষ করার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, আসছে রমজানের পরে জেলা সফরে নেমে তৃণমূলের সম্মেলন শেষ করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, এ বছরই দলের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসেবে প্রস্তুতি নিতে হবে কেন্দ্রীয় নেতাদের। জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূলের সকল জেলা-উপজেলা সম্মেলন অবশ্যই শেষ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি যেন শুনতে না পাই অমুক জেলা তমুক উপজেলার সম্মেলন বাকি আছে। এজন্য আটটি বিভাগ সফরের জন্য সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের যুক্ত করতে আটটি কমিটি করতে বলেন শেখ হাসিনা।’

সভা শেষে দলের দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি বনানীর দুর্ঘটনার পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাশ্রমী শিক্ষার্থীদের সাহসী ও কার্যকরী ভূমিকার জন্য সভার পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। আওয়ামী লীগ যথাযথ মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন ও সংগঠনের জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে আটটি টিম গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দলের উপদেষ্টাম-লী, প্রেসিডিয়াম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত এই টিমগুলো আটটি সাংগঠনিক বিভাগের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ ও গতিশীল করবে। সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী সারা দেশে দলীয়ভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ লক্ষ্যে সারা দেশে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরে সাংগঠনিকভাবে বছরব্যাপী উপযোগী কর্মসূচি পালন ও গ্রন্থ প্রকাশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সভায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে যেসব মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতৃবৃন্দ সংগঠনের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছেন না তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর প্রতিবেদন তৈরি ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সভার শুরুতেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বনানী অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে গভীর শোক প্রকাশ ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সংঘটিত পবিত্র জুমার দিনে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করা হয় এবং এ ঘটনায় হতাহতের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও গভীর সহমর্মিতা জানান।

সভায় দলের সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্যাহ, সাহারা খাতুন, পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আবদুর রাজ্জাক, ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, আবদুল মান্নান খান, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও উপ-দপ্তর বিপ্লব বড়–য়া উপস্থিত ছিলেন।