রাজধানীর বনানীতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চরবানিয়াপাড়া গ্রামের ইখতিয়ার হোসাইন মিঠু (৩৫) ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় মিঠুর রোজগারের টাকায় গ্রামের বাড়িতে চলত তাদের সংসার। ছোট ভাই টিটুকে ঢাকাতে নিজের কাছে রেখে পড়ালেখা করানোসহ সব দায়িত্বই ছিল মিঠুর ওপর। তার হঠাৎ মৃত্যুতে এখন পরিবারটির ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্নের পাশাপাশি টিটুর লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
গতকাল শুক্রবার সকালে মিঠুর অগ্নিদগ্ধ মরদেহ তার বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শুরু হয় মাতম। মিঠুর মা হাজেরা খাতুন বিলাপ করতে করতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কত কষ্ট করে অনেক আশা নিয়ে আমি ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) পড়ালেখা করাইছি। আশা ছিল মিঠু যেন ছোট ভাইটারে নিজের মতো করে গড়ে তোলে। মিঠু সেই দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে তুলেও নিছিল। টিটুকে ঢাকায় রেখে পড়ালেখা করাচ্ছিল। এখন তো টিটুর ভবিষ্যৎও অন্ধকার হয়ে গেল।’ মিঠুর স্ত্রী আশা খাতুন জানান, মিঠু এফ আর টাওয়ারের ২২ তলায় প্যাডেস্ক নামে একটি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড কুরিয়ার সার্ভিসে তিন বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় অফিসের কাজে ভবনটির ১১ তলায় যান তিনি।