‘জীবনের শেষ সম্বলটাও পুড়ে গেল’

রাজধানীর গুলশান ডিএনসিসি কাঁচা ও সুপার মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হওয়া দোকানগুলোর পাশেই আহাজারি করছিলেন মাহফুজা বেগম (৫৫)। দোকানের পোড়া দ্রব্যসামগ্রী হাতে নিয়ে বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, ‘জীবনের শেষ সম্বলটাও পুড়ে গেল। আমরা কী নিয়ে বাঁচব। আগেরবার পোড়ার পর ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ শোধ হয়নি। পথে বসে গেলাম আমরা।’

মাহফুজা বেগমের পাশেই ছিলেন স্বামী আবদুর রব তালুকদার। শনিবার দুপুরে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘সৎ পথে বাঁচার জন্য আমরা পাঁচ ভাই এক সঙ্গে এই মার্কেটে জেনারেল স্টোর নামে ছয়টি দোকান করি। আমি গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে থাকি। আগুনের খবর পেয়ে সকালেই ঢাকা রওনা হই।’

আবদুর রবের ছোট ভাই মো. জহিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দোকানে ফুড আইটেমই বেশি ছিল। প্রতিটি দোকানে চাল-ডালের পাশাপাশি অন্যান্য ফুড আইটেমও ছিল। সব মিলে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগের বার আগুনে আমাদের দোকানগুলো পুড়ে যায়। প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তখন যমুনা ব্যাংক থেকে ৫০ লাখ টাকা লোন নিয়ে আবার শুরু করি। সেই টাকা এখনো শোধ হয়নি। আবার সব পুড়ে গেল। এবার সরবার আমাদের সহায়তা না দিলে বেঁচে থাকাই কষ্টকর হয়ে যাবে।’

মাদারীপুরের ট্যাকেরহাটের হোসেনপুর ইউনিয়নের আবদুর রব তালুকদার ও তার চার ভাই জহিরুল, আনোয়ার, ইউসুফ ও ইমন মিলে ছয়টি দোকান গড়ে তোলে গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটে।

গত শুক্রবার ভোর রাতে আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয় তিন শতাধিক দোকান। মার্কেটের উত্তর পাশে এক সারিতে জিয়া জেনারেল স্টোর নামের ওই ফুড আইটেমের দোকানগুলো ছিল তাদের একমাত্র সম্বল।

শনিবার দুপুরে ভস্মীভূত হওয়া ওই দোকানের পাশেই আহাজারি করতে দেখা যায় পরিবারটির সদস্যদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে বেশির ভাগ দোকানের চাল-ডাল পুড়ে কালো হয়ে গেছে। টিনের তৈরি দোকানের সামনে কালো পানি জমে আছে। পানিতে ভাসছে দোকানের পোড়া সামগ্রী।