কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

অর্ধবছরই থাকে বন্ধ বাড়ছে সেশনজট

বছরের প্রায় অর্ধেক সময়ই ছুটি থাকছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি)। এর মাঝে বিভিন্ন আন্দোলন, সংঘর্ষের কারণে বন্ধ থাকছে আরও কিছুদিন। এসব কারণে বাড়ছে সেশনজট। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব বিভাগেই এক-দেড় বছরের সেশনজট রয়েছে; ব্যাচ রয়েছে ছয়-সাতটি।

কয়েক বছর ধরেই ছুটি কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু প্রশাসনের এ ব্যাপারে মাথাব্যথা নেই। চলতি ক্যালেন্ডারেও ছুটির পরিমাণ অনেকটা আগের মতোই রয়েছে। আগের ক্যালেন্ডারে বাৎসরিক মোট ছুটির পরিমাণ ছিল ১৭২ দিন। এবার পাঁচদিন কমে তা দাঁড়িয়েছে ১৬৭ দিনে। এর মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও ধর্মীয় দিবস উপলক্ষে বন্ধ থাকবে ১৪ দিন, গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৩০ দিন, ঈদুল আজহায় নয় দিন, দুর্গাপূজায় পাঁচ দিন এবং শীতকালীন ছুটি উপলক্ষে পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে। সপ্তাহে দুদিন শুক্র ও শনিবার অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাপ্তাহিক ছুটি মোট ১০৪ দিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে স্নাতকোত্তর শেষ করার কথা থাকলেও তারা এখনো স্নাতকই শেষ করতে পারেনি।’ কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১২-১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এখনো স্নাতকোত্তরের প্রথম সেমিস্টার শেষ করতে পারেননি। একই অবস্থা রসায়ন, ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইসিটি), পদার্থবিজ্ঞান, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ও নৃবিজ্ঞান বিভাগে। এই বিভাগগুলোতে ছয় মাস থেকে শুরু করে দেড় বছরের সেশনজটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অনেক বর্ষে রয়েছে একাধিক ব্যাচ।

সাপ্তাহিক বন্ধ কমানোর দাবি জানিয়ে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের এমবিএ’র শিক্ষার্থী আবির সিদ্দিকী বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী ২০১৬-তে বিবিএ এবং ’১৭-তে এমবিএ শেষ করার কথা থাকলেও ’১৯-এর মাঝামাঝিতেও শেষ হচ্ছে না। নানা ইস্যু, দীর্ঘ ছুটির তালিকা এবং অনাকাক্সিক্ষত বন্ধের কারণে সেশনজট বাড়ছে। শিক্ষকদের আন্তরিকতা থাকলে শিক্ষার্থীরা এই সেশনজট থেকে মুক্তি পেতে পারে।’

সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক এবং ইংরেজি বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম হানিফ বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বৈশ্বিক শিক্ষার আঁতুড়ঘর। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় অর্ধবছর বন্ধ থাকে। যার ফলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে বের হতে আমাদের ছয় থেকে সাত বছর এবং কোনো কেনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি সময় লাগে।’

সেশনজটের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সেশনজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি। দ্রুতই সবার সঙ্গে বসে এর সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ছুটি কমানোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘চলমান সেশনে কিছু ছুটি কমানোর সুযোগ এখনো রয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’