তুরস্কের স্থানীয় নির্বাচনে রাজধানী আঙ্কারায় পরাজিত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইস্তাম্বুলে মেয়র নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) চেয়ে এগিয়ে আছে বিরোধী দল। অথচ এই শহরের মেয়র হিসেবেই ১৯৯৪ সালে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন এরদোয়ান।
২০০৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এরদোয়ান রাজনীতিতে আধিপত্য ধরে রেখেছেন। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনে এই হারকে এরদোয়ানের জন্য বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আন্দালুর মতে, আঙ্কারায় বিরোধী দল পিপলস রিপাবলিকান পার্টির (সিএইচপি) প্রার্থী মনসুর ইয়াভাস ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। এর বিপরীতে একেপির প্রার্থী মেহমুদ ওঝাসেকি পেয়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ ভোট। গত ২৫ বছরে এবারই প্রথম ইসলামিস্ট একেপি পরাজয়ের শিকার হয়েছে। আর আঙ্কারায় গত ১৬ বছর পর ইসলামিস্টদের পতন হয়েছে। অবশ্য জাতীয় পর্যায়ে মেয়র নির্বাচনে একেপি পার্টি নেতৃত্বাধীন জোট ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
ভোটের পর এরদোয়ান বলেছেন, যদি কোনো স্বল্পতা থেকে থাকে তাহলে সেগুলো সংশোধন করা আমাদের দায়িত্ব। কাল সকাল থেকে আমরা নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করতে শুরু করব এবং তা পূরণে কাজ করব।
সিএইচপি প্রার্থী একরেম ইমামোগলু জানান, তিনি প্রায় ২৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। আর একেপি পার্টি জানিয়েছে, তাদের প্রার্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলিদিরিম ৪ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। উভয় প্রার্থীই ৪০ লাখের বেশি ভোট পেয়েছেন বলে খবরে বলা হয়েছে। তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ইজমিরে জয় পেয়েছেন সিএইচপি প্রার্থী।
২০১৮ সাল থেকেই তুরস্কের মুদ্রা লিরা পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত তিন মাসে বেশ ভালো পতনের শিকার হয়েছে লিরার মান। অর্থনৈতিক সংকটাবস্থার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছিলেন, এই নির্বাচন তার পার্টির জন্য এবং দেশের জন্য ‘টিকে’ থাকার প্রশ্ন।
তুরস্কের প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ ভোটার মেয়র এবং কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে ভোট দিয়েছে। মোট ভোটারের মধ্যে নির্বাচনে ৮৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা যায়।