দেশে এখনো জঙ্গি হুমকি আছে। এগুলো কিছুতেই উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ওয়াজ-মাহফিলে জঙ্গি ও মাদকের কুফল সম্পর্কে বলতে হবে। ইভটিজিং ও পাশবিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। গতকাল সোমবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব আলোচনা করেন বলে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান। তারা আরও জানান, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ফেইসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।
সভায় আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, অতিরিক্ত আইজিপি ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আবুল কাশেম, অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম, এসবির অতিরিক্ত আইজিপি মীর শহীদুল ইসলাম, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অতিরিক্ত আইজিপি) শাহাব উদ্দীন কোরেশী, এনএসআইর পরিচালক মেজবাহউদ্দিন, ঢাকার পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট প্রধান এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদা এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জঙ্গি ও মাদক নিয়ে বেশি কথা হয়েছে। দেশে এখনো জঙ্গি হুমকি আছে। জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গিদের বিষয়ে অনেকে উদ্বেগ জানিয়েছেন। পলাতক জঙ্গিদের গ্রেপ্তার, কারাগার থেকে বের হওয়া জঙ্গিরা কোথায় আছে তা মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। জঙ্গিরা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। তবে দেশে জঙ্গি হামলা চালানোর সামর্থ্য নেই জঙ্গি সংগঠনগুলোর।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে পুলিশ। কক্সবাজারের মতো সারা দেশেই মাদক কারবারিদের আত্মসমর্পণের আওতায় আনা হবে। যারা আত্মসমর্পণ করবে তাদের সব ধরনের সহায়তা করা হবে। আর যারা আত্মসমর্পণ করবে না তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ। রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর থাকবে পুলিশ।’
বৈঠকে আইজিপি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ফেইসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উৎসবমুখর পরিবেশ ও নিরাপদে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’ এ সময় তিনি নববর্ষকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের জনসমাগমস্থলে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। জাবেদ পাটোয়ারী আশা প্রকাশ করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ আমরা নিরাপদে উদযাপন করতে পারব।
সভায় রাজধানীর রমনা বটমূল, রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিলসহ বৃহৎ জনসমাগমস্থল এবং মঙ্গল শোভাযাত্রায় পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও গাড়ি পার্কিংয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জরুরি উদ্ধার অভিযানের জন্য পুলিশের হেলিকপ্টার নিয়োজিত থাকবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় শপিং সেন্টার, মার্কেট, বাজার, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নববর্ষের হালখাতা অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রেলস্টেশন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালসহ জনসাধারণের চলাচলের স্থানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও প্রতারকচক্রকে ধরতে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।