পূর্বঘোষিত ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে রেলপথ ও সড়কপথ অবরোধ করে রাখেন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সমূহের শ্রমিকেরা। অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
৮ টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা অবরোধের কর্মসূচি থাকলেও প্রশাসনের আশ্বাসে এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনা করে ২ঘন্টা পর সকাল ১০ টায় অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় শ্রমিকরা। তবে সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে হাফিজ জুট মিলস, গুল আহমদ জুট মিলস, এমএম জুট মিলস, গালফ্রা হাবিব ও আরআর জুট মিলের শ্রমিকরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
শ্রমিকরা বলেন- চার বছর ধরে আশ্বাস দিয়েও মজুরি কমিশনসহ আমাদের অন্যান্য দাবি পূরণ করেনি বিজেএমসি। এছাড়া বকেয়া মজুরি, পিএফের টাকা প্রদান ও বদলি শ্রমিকদের স্থায়ী করণের বিষয়েও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। শ্রমিকদের ৮ সপ্তাহের মজুরি ও কর্মচারিদের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে বলে তারা জানান। বিজেএমসি ২৮ মার্চের মধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কার্যকর না করায় দাবি আদায়ে আন্দোলনের কর্মসূচি দেয় শ্রমিকরা।
সকাল ৮টায় হাফিজ জুট মিলের শ্রমিকরা সড়ক ও রেল পথ অবরোধ করলে আটকা পড়ে শতশত গাড়ি। অবরোধে চাদপুর থেকে চট্টগ্রাম গামী মেঘনা এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস আটকা পড়ে। এ সময় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ে।
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায়, এএসপি শম্পা রানী সাহা, ওসি দেলওয়ার হোসেনসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ স্থগিত করে। এদিকে হাফিজ জুটমিল সংলগ্ন বিজয়স্মরণী কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা ৩০ মিনিট পর শুরু হয় বলে জানান নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায়।
জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও হাফিজ জুট মিলের সিবিএ সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান বলেন ’প্রশাসনের আশ্বাসে ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কারণে আমরা অবরোধ স্থগিত করলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
ওসি দেলওয়ার হোসেন বলেন, শ্রমিকদের অবরোধে দুটি রেল ও বেশ কিছু যানবাহন আটকা পড়ে, শ্রমিকরা অবরোধ স্থগিত করলে ১০টায় রেল ও গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়।’