রাজউকের তথ্য কামাল আতাতুর্কের অধিকাংশ ভবনই ত্রুটিপূর্ণ

রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর প্রায় সব ভবনই ত্রুটিপূর্ণ পেয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ ভবনগুলো নির্মাণে রাজউক অনুমোদিত নকশা মানা হয়নি। তথ্য সংগ্রহ অভিযানের দ্বিতীয় দিনে গতকাল মঙ্গলবার এমন চিত্র পেয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

রাজধানীতে ত্রুটিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করতে গত সোমবার থেকে তথ্য সংগ্রহ অভিযানে নামে রাজউক। ২৪টি দল আটটি অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। প্রাথমিকভাবে তারা ১০ তলার বেশি বহুতল ভবনগুলোর তথ্য সংগ্রহ করবে। অভিযানের দ্বিতীয় দিনে গতকালর্  রাজউকের অঞ্চল ৪-এর কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহের জন্য বনানীর কামাল আতাতুর্ক সড়কের ভবনগুলো পরিদর্শনে যান।

এদিন পরিদর্শনকৃত প্রায় সবগুলো ভবনেই ত্রুটি পান অঞ্চল ৪-এর কর্মকর্তারা। বিকেল পর্যন্ত ৬টি ভবন পরিদর্শন করেন তারা। প্রায় সবগুলোতেই রাজউকের অনুমোদিত নকশার লঙ্ঘন করে নিজস্ব নিয়মে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অঞ্চল ৪-এর পরিচালক মামুন মিয়া জানান, ভবনগুলোতে অতিরিক্ত বেজমেন্ট তৈরি বা বেজমেন্ট না রাখা, সেট ব্যাক না রাখা ও আবাসিক হিসেবে অনুমোদন নিয়ে অনাবাসিক ও বাণিজ্যিক হিসেবে ভাড়া দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রাজউকের ইমারত আইন অনুযায়ী, ভবনের সামনে-পেছনে ৫ ফুট করে জায়গা রাখতে হয়। কিন্তু কামাল আতাতুর্ক সড়কের একটি ভবনে তা করা হয়নি। এ ছাড়া ভবনটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও সন্তোষজনক ছিল না। পাশের আরেকটি ভবনে অনুমোদনহীন দুটি অতিরিক্ত ফ্লোর ও একটি বেজমেন্ট নির্মাণ করা হয়েছে। নকশায় খালি জায়গা থাকার কথা থাকলেও ভবনে কোনো খালি জায়গা ছিল না।

রাজউক কর্মকর্তারা জানান, এই এভিনিউর একটি ভবনের নকশায় তিন তলার পর আবাসিক ভবন থাকলেও সেখানে বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

আরেকটি ভবনের প্রথম তলায় নকশায় খালি জায়গা থাকার কথা ছিল। তবে সেখানে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ভাড়া দেওয়া হয়েছে। নকশায় দুটি বেজমেন্ট থাকার কথা থাকলেও আছে একটি। এ ছাড়া নকশায় সিঁড়ি একদিকে থাকলেও অন্যদিকে নির্মাণ করা হয়। এ ভবনের বিষয়ে রাজউকের অঞ্চল পরিচালক মামুন মিয়া জানান, ভবনের নকশা থেকে সবকিছু পরিবর্তন করে এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও সন্তোষজনক নয়। এই ভবনের পাশের আরেকটি ভবনে ফায়ার এক্সটিংগুইশার পাওয়া গেলেও সেগুলোতে কোনো তারিখ উল্লেখ ছিল না। এ ছাড়া যেখানে জরুরি নির্গমন সিঁড়ি থাকার কথা, সেখানে সেই সিঁড়ি না করে রাখা হয়েছে জেনারেটর।

একই সড়কের আরেকটি টাওয়ারে রাজউকের দল তথ্য সংগ্রহে গেলে ভবনের মালিক কার্যালয়ে তালা দিয়ে চলে যায়। তবে সেখানে নির্মাণকাজ চলছিল। সেই কাজ অঞ্চল পরিচালক মামুন মিয়া বন্ধ করে দেন।

অঞ্চল ৫-এর পরিচালক শাহ আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে ধানমণ্ডির সাত মসজিদ এলাকায় দ্বিতীয় দিনের অভিযান শুরু হয়। বেলা ৪টা পর্যন্ত পাঁচটি ভবন পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ওই সময় দুটি ভবনে বেশ কিছু ত্রুটি পায় কর্র্তৃপক্ষ। একটি ভবনে কার পার্কিংয়ের জায়গায় রাখা হয়েছে ফায়ার এক্সটিংগুইশার। এ ছাড়া পাশের নির্মাণাধীন ভবনের মূল নকশায় দুটি লিফট উল্লেখ থাকলেও অতিরিক্ত আরেকটি লিফট স্থাপন করে নকশায় বিঘœ ঘটানো হয়েছে।

এ বিষয়ে শাহ আলম চৌধুরী বলেন, ‘বহুতল ভবনগুলোর ত্রুটি খুঁজে বের করতে আমরা সকাল থেকে অভিযান শুরু করেছি। নকশার নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ, ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম এবং ভবন ব্যবহারে ঝুঁকি আছে কি না, সেগুলো খুঁজে দেখছি।’

এদিন মতিঝিল ও আশপাশ এলাকায় অঞ্চল ৬-এর পরিচালক খন্দকার অলিউর রহমানের নেতৃত্বে তথ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। এ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামান জাহির বলেন, ‘আমাদের জোনে চারটি টিম কাজ করছে। আজকে আমরা ত্রুটিপূর্ণ ভবন যেমন পেয়েছি, আবার কম ত্রুটিযুক্ত ভবনও পেয়েছি। তবে অধিকাংশ ভবনেই পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।’

গত রবিবার গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম রাজধানীর ত্রুটিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করতে ১৫ দিনের অভিযানের ঘোষণা করেন। তিনি জানান, প্রথমে বহুতল ভবন, দ্বিতীয় দফায় সব ভবন পরিদর্শন করে বিল্ডিং কোডের আওতায় আনা হবে। অনুমোদনহীন ভবন ভেঙে ফেলা হবে বলেও জানান তিনি। তবে রাজউক কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের আওতাধীন প্রতিটি অঞ্চল থেকে সাত দিনের মধ্যেই তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন জমা দেবেন।