লক্ষ্মীপুর-ঢাকা লঞ্চ সার্ভিস

লক্ষ্মীপুরের অলক্ষ্মী দূর হবে কবে!

চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা লক্ষ্মীপুর। মেঘনা বিধৌত এ জেলায় রয়েছে ভুলুয়া, ডাকাতিয়া, রহমত খালিসহ ছোট বড় অসংখ্য নদী ও খাল।

এ জেলার ওপর দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ২১টি জেলার মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে। আর এ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সড়ক পথ। যদিও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য রয়েছে নৌ-পথ। অথচ সহজ যোগাযোগের জন্য সম্ভাবনাময় এ জেলায় লঞ্চ চলাচলের অনুমতি পাওয়ার পরও চালু হয়নি লঞ্চ সার্ভিস।

১৯৮৪ সালে লক্ষ্মীপুর স্বতন্ত্র জেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। এই  জেলার  মোট আয়তন ১৪ হাজার ৫৬ বর্গ কি. মি.। যার পশ্চিমে ভোলা, পূর্বে নোয়াখালী, উত্তরে চাঁদপুর ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এখানে মেঘনা, ভুলুয়া, ডাকাতিয়া, রহমত খালিসহ রয়েছে ছোট বড় অসংখ্য নদী ও খাল।

লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকা লঞ্চ চালুর জন্য ১৯৭২ সাল থেকেই দাবি করে আসছেন এ জেলার বাসিন্দারা। অবশ্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় এ দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও তা আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার বাসিন্দা ফয়সাল কবির বলেন, জেলাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন  কয়েকবারই ঢাকা-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ সার্ভিস চালুর বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।

সর্বশেষ গত ৩ মার্চ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ শহর থেকে অদূরে মজুচৌধুরীর ঘাঁট থেকে লঞ্চ চলাচলের অনুমোদন দেয়। পাশাপাশি ৩১ মার্চ পর্যন্ত বোগদাদীয়া-৮ নামে একটি লঞ্চ চলাচলের সময়সূচিও নির্ধারন করা হয়।

লক্ষ্মীপুর মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সানজানা বিনতে ছায়েদ বলেন, বারবার আশ্বাস আর অনুমোদনের পরও চালু হচ্ছে না সার্ভিসটি। তিনি মনে করেন, ঢাকা-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ সার্ভিসকে শনির দশায় পেয়েছে। এই শনির দশা কাটাতে হলে, সকল শ্রেনীপেশার লোকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরো জানান, একটি মহল চাচ্ছেন না এ রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু হোক। বাস ও সড়কে চলাচলরত বিভিন্ন গাড়ির মালিকেরা ষড়যন্ত্র করছেন লঞ্চ সার্ভিসটি যেন বন্ধ থাকে।

এ ব্যাপারে ‘ঢাকা টু লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চাই’ পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পলোয়ান জানান, লঞ্চ সার্ভিস চালুর জন্য বিভিন্ন সময় জেলাবাসীকে নিয়ে মানববন্ধন, পোস্টার, লিফলেট বিতরণ ও স্মারকলিপিসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। তারই প্রেক্ষিতে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এই রুটে লঞ্চ চালুর অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত লঞ্চটির যাত্রা শুরু হয়নি। তাই তিনি এটিকে নতুন কোন ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন।

বোগদাদীয়া লঞ্চের সুপারভাইজার আবদুর রহিম বলেন, এই রুটে চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বোগদাদীয়া-৮ নামে একটি বিলাসবহুল লঞ্চ। কিন্তু স্থানীয় সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল সময় না দেওয়ায় লঞ্চটি যাত্রা শুরু করতে পারছে না।

অভিযোগটি অস্বীকার করে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেন, নিজেদের সমস্যার কারণে যথাসময়ে বোগদাদীয়া-৮ লঞ্চটির যাত্রা শুরু করতে পারেনি মালিকপক্ষ। আর এখন দোষ চাপাচ্ছে সাংসদের ওপর।

লঞ্চটির যাত্রা শুরুর জন্য যখনই সাংসদকে প্রয়োজন মনে করবেন মালিকপক্ষ, তখনই তিনি সময় দেবেন বলেও জানান তিনি।