ওয়াল্ট ডিজনি ছোটদের সৃষ্টিশীল এক জগৎ বানিয়েছেন। নাম ডিজনি ওয়ার্ল্ড। যেখানে শিশুদের জন্য রয়েছে অফুরান আনন্দের উৎস। সিনড্রেলা, মিকি মাউস, ডোনাল্ড ডাক, গুফি এলিস, পিনোকিও এরা সবাই ঘুরে বেড়ায় চারপাশে। শুধু শিশু কেন, সব বয়সীদের জন্যই এখানে রয়েছে বিনোদনের ব্যবস্থা। উত্তেজনা আর কল্পরাজ্যে হারিয়ে যেতে প্রতিদিনই এখানে বিশ্বের নানা দেশ থেকে লাখ লাখ লোকের আনাগোনা হয়। ডিজনি ওয়ার্ল্ড নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন লায়লা আরজুমান্দ
প্রতিষ্ঠাতা ওয়াল্ট ডিজনি
১৯০১ সালে শিকাগো শহরে ওয়াল্ট ডিজনির জন্ম। তিনি ডিজনিল্যান্ড ও ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের প্রতিষ্ঠাতা। ছিলেন পৃথিবীর প্রথম অ্যানিমেশন প্রোগ্রামার ও কার্টুনিস্ট। একই সঙ্গে মার্কিন চলচ্চিত্র প্রযোজক, নির্দেশক, কাহিনীকার, নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী। ১৯১৯ সালে তিনি শুরু করেন তার পেশাদারি জীবন। ধীরে ধীরে তার আঁকা কার্টুন জনপ্রিয় হতে থাকলে তিনি চলে আসেন হলিউডে। ভাইকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির যাত্রা। তার তৈরি অসওয়াল্ড চরিত্রের স্বত্ব চুরির পর তিনি তৈরি করেন কালজয়ী মিকি মাউস চরিত্রটি। এরপর একে একে তৈরি করেন আরও কালজয়ী সব কার্টুন চরিত্র। ১৯৫০ সালে তৈরি করা সিনড্রেলা সিনেমাটি। জীবিত থাকাকালীন প্রায় শতাধিক ছবি প্রযোজনা করে বাগিয়েছেন ২২টি অস্কার!
ডিজনিল্যান্ড ও ডিজনি ওয়ার্ল্ড
ডিজনি স্বপ্ন দেখতেন একটা বিনোদন পার্কের যেখানে শিশুরা আসবে ও আনন্দ উপভোগ করবে। অবশেষে ১৯৫৫ সালে তিনি ডিজনিল্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু এখানে ছিল না বড়দের জন্য বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা। তাই ডিজনি ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে ‘ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড’ নামে আরেকটি বিনোদনের সাম্রাজ্য তৈরি করেন। যেখানে তিনি সবধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা করেন যা ডিজনিল্যান্ডে করতে পারেননি। ডিজনি ওয়ার্ল্ডেও নির্মাণকাজ চলাকালীন ১৯৬৬ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পার্কটি উন্মুক্ত করা হয় ১৯৭১ সালে। যার আয়তন দুটি ম্যানহাটন দ্বীপের সমান অথবা সানফ্রানস্সিকো শহরের সমান। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই থিম পাকটি তৈরি হয়েছে ডিজনির প্ল্যান অনুসারে। পুরো এলাকায় রয়েছে চারটি থিম পার্ক। এগুলো হলো, ম্যাজিক ওয়ার্ল্ড কিংডম, এনিমেল কিংডম, এপিকট ও হলিউড স্টুডিও। এছাড়াও রয়েছে টাইফুল লেগুন, বিলজার্ড বিচ নামে দুটি ওয়াটার পার্ক। রয়েছে গলফের মাঠসহ অন্য আরও অনেক বিনোদনের উপকরণ যা লিখে শেষ করা যায় না।
ম্যাজিক কিংডম
ডিজনি ওয়ার্ল্ডের অন্যতম আকর্ষণ ‘ম্যাজিক কিংডম’ বা জাদুর রাজ্য। সত্যি সত্যি এটা জাদুরই রাজ্য। শিশুদের গল্পের বইয়ের সব কল্পনা যেন এখানে বাস্তব রূপ লাভ করে। জাদুর রাজ্যের যাত্রা শুরু করতে হবে মেইন স্ট্রিট ধরে। সুন্দর করে সাজানো রাস্তার দুই পাশে রয়েছে ছোট ছোট দোকান, থিয়েটার, উঁচু ঘোড়ার গাড়ি। হাঁটতে হাঁটতে মনে হবে যেন রূপকথার রাজ্যে হারিয়ে গেছেন। হঠাৎ করে কোথাও থেকে হাজির হবে রাজকন্যা। আবার কোথাও দেখা যাবে মিকি মাউসের দল। এই মেইন স্ট্রিটেই ডিজনি কার্টুনের যত চরিত্র আছে সিনড্রেলা থেকে স্নো হোয়াইট, আলাদিন-জ্যাসমিন, এমনকি মিকি মাউস থেকে ডোনাল্ড ডাক পর্যন্ত সব নেচে-গেয়ে একটি শোর মাধ্যমে স্বাগত জানায় দর্শনার্থীদের।
ফ্যান্টাসিল্যান্ড : মেইন স্ট্রিট ধরে এগিয়ে গেলে চোখে পড়বে ফ্যান্টাসিল্যান্ড। ম্যাজিক কিংডমের এই এলাকাটি সাজানো হয়েছে মধ্যযুগীয় ফেয়ারি টেলস্-এর অনুকরণে। কল্পনাকে যে এ ভাবেও বাস্তবের রঙে রাঙানো যায়, এখানে না গেলে উপলব্ধি করা যায় না। এখানে দেখা মিলবে ‘উইনি দ্য পু’, পিটার প্যানের বাড়ি, মিকির আস্তানা, বিউটি অ্যান্ড বিস্ট-এর দুর্গ, স্নো হোয়াইটের কটেজ ‘সুইস ফ্যামিলি ট্রি হাউস’। এখানকার কিছু কিছু রাইড ডিজাইন করেছেন ওয়াল্ট ডিজনি নিজেই।
অ্যাডভেঞ্চারল্যান্ড : এই এলাকা সাজানো হয়েছে ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ এর আদলে। সব থেকে জনপ্রিয় রাইডগুলোর মধ্যে হলো জঙ্গল ক্রুজ, পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান, এনচ্যান্টেড টিকি, শ্রাঙ্কেন নেড’স, জুনিয়র জঙ্গল বোট, আলাদিনের ম্যাজিক কার্পেটসহ আরও অনেক। এসব রাইডের আশপাশে গেলে শোনা যাবে ভয়-উত্তেজনার চিৎকার।
সিনড্রেলা ক্যাসেল : মনে আছে সিনড্রেলা নামের সেই মেয়েটির কথা, যার সৎমা তাকে সারা দিন নানা রকম কাজে ব্যস্ত রাখত আর ভীষণ অত্যাচার করত। খেলাধুলা করার অথবা কোথাও বেড়াতে যাওয়ার অনুমতি দিত না। একদিন ইচ্ছেপরী এসে যার জীবনটাই পাল্টে দিল। সেই সিনড্রেলার প্রাসাদ রয়েছে ম্যাজিক কিংডমের ঠিক মাঝখানে। অসাধারণ কারুকার্যময় এই প্রাসাদের টাওয়ার ১৮৯ ফুট উঁচু। এই প্রাসাদটি ডিজনি ওয়ার্ল্ডের সব থেকে জনপ্রিয় ছবি তোলা একটি জায়গা। সবাই এর সামনে ছবি তোলাতে ব্যস্ত থাকে। এছাড়াও ম্যাজিক কিংডমের মধ্যে জনপ্রিয় অন্যান্য জায়গা হচ্ছেÑ ফ্রন্টিয়ার ল্যান্ড, টুমোরোল্যান্ড, লিবার্টি স্কয়ার, হন্টেড ম্যানশন ইত্যাদি। এছাড়া ম্যাজিক কিংডমের অন্যতম আরেকটি আকর্ষণ হলো এর প্যারেড ও স্টেজ-শো। সারা দিনে কয়েকটি করে চলতে থাকে স্টেজ-শো।
এনিমেল কিংডম
যারা প্রাণী পছন্দ করেন তাদের জন্য অত্যন্ত চমৎকার স্থান এনিমেল কিংডম। এখানেও রয়েছে নানা ধরনের আকর্ষণীয় রাইড। উত্তেজনায় পূর্ণ এসব রাইড সব বয়সীদের কাছে সমান জনপ্রিয়। এখানে প্রবেশ করলে আপনি হারিয়ে যাবেন অন্য এক জগতে।
অ্যাভাটার থিম পার্ক : এনিমেল কিংডমের অন্যতম আকর্ষণ অ্যাভাটার থিম পার্ক। প্রাকৃতিক গাছগাছালিতে পরিপূর্ণ, বিশাল সুন্দর পর্বত রয়েছে সেখানে ভাসমান অবস্থায়। এছাড়া এমন কিছু গাছ-লতাগুল্ম রয়েছে যা শুধু রাতের বেলায় জ্বলে ওঠে। জেমস ক্যামেরনের বিখ্যাত চলচ্চিত্র অ্যাভাটার-এ উঠে এসেছিল প্যানডোরা নামের একটি গ্রহের স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রকৃতিকে বাঁচানোর আপ্রাণ লড়াইয়ের গল্প। ক্যামেরনের সেই কল্পিত প্যানডোরা গ্রহের মতো করে তৈরি হয়েছে এই থিম পার্ক। এর ডিজাইন করেছে ক্যামেরনের সহযোগী ওয়াল্ট ডিজনি ইমাজিনারিং প্রতিষ্ঠান ও লাইটস্টর্ম এন্টারটেইনমেন্ট। প্রায় ৫০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে এটা তৈরি করতে।
কিলিমানজারো সাফারি পার্ক : এটা এনিমেল কিংডমের অন্যতম আকর্ষন। একটি বিশেষ ধরনের গাড়িতে করে দর্শনার্থীদের নিয়ে যাওয়া হয় এই পার্কে। এখানে ঘোরার সময় মনে হবে যেন সত্যি সত্যি আফ্রিকাতে চলে এসেছেন। নানা ধরণের প্রাণী চারপাশ দিয়ে ঘুরে বেড়াবে। এছাড়াও এনিমেল কিংডমে রয়েছে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান, যেমনÑ প্রাইমভেল হোর্য়াল, এভারেস্ট- লিজেন্ট অফ দ্য ফরবিডন মাউন্টেন, জঙ্গল ট্রেক, ফেস্টিবল অব দ্য লায়ন কিং, ডাইনোসর, ফ্লাইট দ্য উন্ডারস, ডিসকভারি ল্যান্ড, ট্রি অব লাইফসহ নানা কিছু।
এপকট
এক্সপেরিমেন্টাল প্রোটোটাইপ কমিউনিটি অব টুমরো অর্থাৎ ভবিষ্যৎ সমাজের এক পরীক্ষামূলক নমুনা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আধুনিকতম নিদর্শন এই থিম পার্কে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় ‘সিমুলেটেড রাইড’ বা ছদ্ম-ভ্রমণের সুযোগ। যেমন, মহাকাশ অভিযান করতে চাইলে চেপে বসতে পারেন ‘মিশন স্পেস’-এর রাইডে। এছাড়াও রয়েছে নানা ধরনের ভয়ংকর ঘূর্ণি রাইড। তবে এখানকার রাইডে ওঠার আগে সতর্কবার্তা পড়ে নেওয়া জরুরি।
কারণ যাদের মোশন সিকনেস রয়েছে বা হৃদযন্ত্র দুর্বল তাদের এইসব রাইডে চড়তে নিরুৎসাহিত করা হয়। এছাড়া এপকটে রয়েছে ‘ওয়াল্ট শোকেস’ নামক জায়গা। যেখানে বিশ্বের ১১টি দেশ প্রতিনিধিত্ব করে তাদের শিল্প-সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য নিয়ে। এপকটের অন্যমত আকর্ষণ হচ্ছে ‘ক্যারেকটার স্পট’। মানে হলো এখানে মিকি মাউস, মিনি মাউস, ডোনাল্ড ডাক, প্লুটো-সহ অন্য কার্টুন চরিত্রদের সঙ্গে দেখা করা যাবে, ছবি তোলা যাবে। শিশুদের ভিড় থাকে সবসময় এই এলাকায়। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও তারা পছন্দের চরিত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও ক্লান্ত হয় না।
ডিজনি’স হলিউড স্টুডিও
মজার ও রোমাঞ্চের জায়গা ডিজনির হলিউড স্টুডিও। এখানে দেখতে পাবেন অসংখ্য ছোট-বড় হলিউডের সিনেমার সেট। একেক সেটের বিশেষত্ব আবার একেক রকম। রয়েছে বিভিন্ন রকমের স্টান শো। এক শোতে গিয়ে হয়তো পড়ে গেলেন ভয়ংকর আগুনের মধ্যে। গায়ে এসে লাগছে আগুনের গরম বাতাস। সেখান থেকে কোনো মতো জান নিয়ে বের হয়ে আরেক শোতে গিয়ে পড়বেন বন্যার কবলে। চারদিকে পানি থেকে বাঁচতে তখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। আরেক শোয়ে গিয়ে দেখবেন মাথার ওপর দিয়ে শাঁ শাঁ করে চক্কর দিয়ে যাচ্ছে হেলিকপ্টার, কানের পাশ দিয়ে ছুটে যাচ্ছে গুলি। এ ছাড়াও ডিজনির হলিউড স্টুডিওর লেজার আর প্রযুক্তির মায়াজালে কখন যে কোথায় হারিয়ে যাবেন তার কোনো হদিসই নেই।
ওয়াটার পার্ক
যারা পানি পছন্দ করেন তাদের জন্য রয়েছে বিশেষভাবে তৈরি দুটি ওয়াটার পার্ক। একটি টাইফুন লেগুন ওয়াটার পার্ক অপরটি ডিজনির ব্লিজার্ড বিচ ওয়াটার পার্ক। বিচ ওয়াটার পার্কের পুল ধারণ করে অন্তত ৭ লক্ষ ৫০ হাজার গ্যালন পানি। যা কিনা বিশ্বের যে কোনো বড় পুলের থেকেও অনেক বেশি। এই পুল দুটিতে রয়েছে অসংখ্য আকর্ষণীয় রাইড। কিছু পুলে নামলে মোকাবিলা করতে হবে বিশাল বিশাল সব ঢেউয়ের। রয়েছে সার্ফিংয়ের ব্যবস্থা। সার্ফিংয়ের সময় হঠাৎ চলে আসতে পারে ঝড়ও। রয়েছে জাহাজ ও মাছ ধরার ব্যবস্থা। জাহাজ হঠাৎ বিশাল ঢেউয়ের তোড়ে হয়ে যাবে টালমাটাল। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সবই কৃত্রিম ঝড় ও ঢেউ। নিরাপত্তার সব রকম ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।
ক্লান্ত?
বিপণি বিতান, রেস্তোরাঁ, নাইট ক্লাবে সরগরম থাকে থিম পার্কের এই এলাকাগুলো। কেনাকাটায়ও কখনো কখনো এখানে ছাড় দেওয়া হয়। আবার রয়েছে নানা ধরনের প্যাকেজ। তবে মজার কথা হচ্ছে এখানে কোথাও চুইংগাম বিক্রি হয় না। যদি চুইংগাম পছন্দ করেন তাহলে বাইরে থেকে নিয়ে আসাই ভালো।
সারা দিন পার্কে পার্কে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে আর যদি বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে না করে তবে সেই ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। ডিজনির পুরো এলাকাজুড়ে রয়েছে ২৭টি রিসোর্ট। তাদের রয়েছে প্রায় তিরিশ হাজার রুম। তার মানে হলো আপনি যদি একদিন করে প্রতি রুমে থাকতে চান তাহলে অন্তত বিরাশি বছর লাগবে। যখন রাত হয়ে আসবে, তখন দেখা মিলবে ডিজনির আরেক রূপ। রাতের বেলা কৃত্রিম আলোর বর্ণিল আলোকসজ্জায় পুরো পার্ক প্রাঙ্গণ সাজে অসাধারণ মোহনীয় রূপে।
বন্ধ হয়নি একদিনও
১৯৭১ সালে ডিজনি ওয়ার্ল্ড চালু হওয়ার পর মাত্র ৪ দিন ছাড়া আর কখনোই বন্ধ হয়নি। এই চারদিন তবু বিশেষ কারণে বন্ধ ছিল। প্রথম বন্ধ ছিল ৯৯ সালে যখন হ্যারিকেন ফ্লয়েড ঝড় আঘাত হেনেছিল। দ্বিতীয় ২০০১ সালে টুইট টাওয়ার ধ্বংসের দিন। তৃতীয় ২০০২ সালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা পাওয়ার ফেইলর হলে। এরপর সর্বশেষ ২০০৬ সালে যখন হ্যারিকেন ম্যাথিও ঝড় আঘাত হানে। এই চারদিন ছাড়া কখনো বন্ধ থাকেনি ডিজনি ওয়ার্ল্ড। মজার বিষয় হচ্ছে টুইট টাওয়ার হামলার দিনেও সেখানে অনেক লোক ছিল। কিন্তু পুরো ডিজনি এলাকা খালি করতে লেগেছিল মাত্র ৩০ মিনিট।
মৃত মানুষ সব জায়গায়
প্রতি মাসে অন্তত একবার থিম পার্কে কেউ না কেউ প্রিয়জনের দেহভস্ম ফেলে যান। সেখানকার আবর্জনা বা বর্জ্য সরানোর জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারীরা সাংকেতিক ভাষায় বার্তা আদান-প্রদান করেন। যেমন যদি শুনতে পান ‘কোড ভি’ তার মানে হলো কেউ বমি করেছে পরিষ্কার করতে হবে।
‘কোড ইউ’ মানে কোনো শিশু হিসু করেছে। আর ‘হেপা ক্লিন আপ’ এর মানে হলো এই মাত্র কেউ মৃত মানুষের দেহাবশেষ ফেলে গেছে। এই দেহভস্ম চিহ্নিত করা ও পরিষ্কার করা অন্যতম গোপন একটি কাজ। ডিজনির সব এলাকাতেই পড়ে এই দেহভস্ম তবে সব থেকে বেশি পাওয়া যায় ডিজনির হন্টেড ম্যানশনে।