বাগেরহাটের রামপালে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশে একাধিক লাশ পড়ে থাকার খবরে সেখানে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গত বুধবার সন্ধ্যায় লাশ পড়ে থাকার খবর পাওয়ার পর রাতেই সেখানে যায় পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশের একাধিক দল সেখানে দিনভর তল্লাশি চালিয়েও কোনো মৃতদেহের সন্ধান পায়নি।
দুপুরে বাগেরহাটের সংবাদকর্মীদের কাছেও মোবাইল ফোনে একই ধরনের খবর আসলে তারা ওই এলাকায় খোঁজ নিতে যান। কিন্তু তারাও এ খবরের কোনো সত্যতা খুঁজে পাননি।
লাশ পড়ে থাকার খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যায় অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশে কয়েকটি মৃতদেহ পড়ে আছে বলে মোবাইল ফোনে পুলিশে খবর দেয়। সেই খবরের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় তল্লাশি চালায়। এসময় কেন্দ্রের আশপাশের গ্রামের মানুষও এই কাজে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু তারাও সেখানে কোনো মৃতদেহ দেখতে পায়নি।’
যে নম্বর থেকে পুলিশকে ফোন করে লাশ পড়ে থাকার খবর জানানো হয় সেটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে জানিয়ে পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘কারা কী উদ্দেশ্যে এই গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আহাদ উদ্দীন হায়দার বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশেপাশে পাঁচ থেকে সাতটি মৃতদেহ পড়ে আছে বলে জেলায় কর্মরত অনেক সংবাদকর্মীর কাছেই খবর আসে। সংবাদকর্মীরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এর সত্যতা যাচাই শুরু করে। কিন্তু আমরা সেখানে গিয়ে কোনো মৃতদেহের সন্ধান পায়নি।’
সুন্দরবনের কাছেই বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় কয়লা-ভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদক সংস্থা ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার কোম্পানি বা এনটিপিসি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড বা পিডিবির মধ্যে চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় গঠিত বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে।
তবে শুরু থেকেই নানা পরিবেশবাদী সংগঠনসহ অনেকেই এই কেন্দ্রটি নির্মাণের বিরোধিতা করে নানা কর্মসূচী পালন করে আসছে। তারা বলছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা নয়, মূলত সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য বাঁচাতেই তাদের কর্মসূচি।