সদ্য শপথ নেওয়া সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মোকাব্বির খানকে ‘গেট আউট লায়ার’ বলে চেম্বার থেকে বের করে দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামালের আইনি চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে বলে বিকেলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন গণফোরামের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোকাব্বির খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বোগাস, বোগাস। রাস্তার লোকজন কী বলেছে আর আপনি তা আমার কাছে জানতে চাইছেন।’
এদিকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় সদস্য নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুপুর ২টার দিকে আমি স্যারের রুমে বসে ছিলাম। মোকাব্বির সাহেব এসে স্যারকে সালাম দিতেই স্যার চরম রাগান্বিত হয়ে বলেছেন, ‘আপনি এখান থেকে বেরিয়ে যান, গেট আউট, গেট আউট। আমার নামে মিথ্যা প্রচার করে বদনাম করছেন। আমার অফিস ও চেম্বার আপনার জন্য চিরতরে বন্ধ।’ পরে মোকাব্বির খান চেম্বার থেকে বেরিয়ে যান।’
তিনি আরও জানান, তখন গণফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ উল্লাহ মধু প্রমুখ সেখানে ছিলেন।
গত মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত মোকাব্বির। এর আগে গত ৭ মার্চ শপথ নেন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত ঐক্যফ্রন্ট ও গণফোরামের আরেক নেতা সুলতান মনসুর। পরে তাকে ফ্রন্ট ও গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মোকাব্বিরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে : গণফোরাম
গতকাল দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মোকাব্বির খান দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিয়েছেন। এ জন্য তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ তার শপথ নেওয়ার বিষয়ে গণফোরামের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দলের কেউই অবগত ছিলেন না। তিনি ব্যক্তিগত ইচ্ছায় শপথ নিয়েছেন। তার শপথে গণফোরামের নেতারা মর্মাহত।
এতে আরও বলা হয়, শপথ নেওয়ার বিষয়ে ড. কামাল হোসেনের ‘সবুজসংকেত’ আছে বলে মোকাব্বির খান গণমাধ্যমে যে বক্তব্য রেখেছেন তা মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন। শিগগিরই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া তার সঙ্গে দলের অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।