বিশ্বকাপ দল ঘোষণা নিয়ে সমস্যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দলটির কোচ ওটিস গিবসন ১৫ সদস্যের দল ঠিক করে রেখেছেন। গত এক বছরে ওয়ানডে সিরিজগুলোর সাফল্য গিবসনের দল বাছাইয়ের কাজ সহজ করেছে। এ সময়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম ও অ্যাওয়ে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাওয়ে এবং ঘরের মাঠে পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতেছে প্রোটিয়ারা। এই সাফল্য থাকায় বিশ্বকাপের ১৫ জনকে একরকম ঠিক করে ফেলেছেন গিবসন। কিন্তু ক্রিকেটারদের ইনজুরি ও ফর্মহীনতা ভাবাচ্ছে তাকে। তাই ১৮ এপ্রিল বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগে চিন্তায় প্রোটিয়া কোচ।
গত এক বছরে ওয়ানডে সিরিজগুলোতে কেমন দল নিয়ে সফল হয়েছে প্রোটিয়ারাÑ দলটির অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসিস দল বাছাইয়ের ব্যাপারে সেই সিদ্ধান্তও জানিয়ে দিলেন। ছয় স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান, সাত নম্বরে একজন অলরাউন্ডার, তিনজন পেসার ও একজন স্পেশালিস্ট স্পিনার এতদিন টানা সাফল্য এনে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ডু প্লেসিসের এমন দলই প্রয়োজন। এই হিসাবে অধিনায়ক ও একজন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে ডু প্লেসিস নিজেই আছেন। বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে আপাতত ইমরান তাহিরকে ছাড়া অন্য চিন্তা করছে না দক্ষিণ আফ্রিকা। দলটির পেস অ্যাটাকও অনেকটাই সেট হয়ে আছে। লুঙ্গি এনগিডি, কাগিসো রাবাদা অভিজ্ঞ ডেল স্টেইনের সঙ্গে বোলিং নেতৃত্ব দেবেন। তাদের সঙ্গে থাকবেন নতুন মুখ আনরিচ নর্টে। এই বিভাগ নিয়ে চিন্তায় আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ গিবসন। এনগিডি ও নর্টে দুজনই ইনজুরির কারণে বিশ্রামে। আইপিএলে সুযোগ পেয়েও খেলা হচ্ছে না তাদের।
ব্যাটিংয়ে ওপেনার হিসেবে হাশিম আমলাই পছন্দের শীর্ষে। তবে গত এক বছরে আমলার ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তায় গিবসনসহ প্রোটিয়া শিবির। গত ১৬ ইনিংসের মধ্যে মাত্র একটি সেঞ্চুরি করেছেন আমলা। তাও ২০১৮ সালে। অবশ্য ইংল্যান্ডের মাটিতে তার ৬৩.৪৪ গড় আশা দিচ্ছে প্রোটিয়াদের। অন্য ওপেনিং জায়গায় কুইন্টন ডি ককের সঙ্গে লড়তে হবে রেজা হেনড্রিকস ও অ্যাইডেন মার্করামকে। তিন নম্বর পজিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেই অভিজ্ঞ কাউকে পাচ্ছে না দক্ষিণ আফ্রিকা। তিন মাস আগে অভিষেক হওয়া রাসি ফন ডার ডুসেনের ওপরই আস্থা রাখতে হচ্ছে। অথবা ডি কককে এই পজিশনে খেলানোর কথা ভাবছেন গিবসন। এরপর অধিনায়ক ও তারপর ক্রিজে নামবেন জেপি ডুমিনি। এই ব্যাটসম্যান কাঁধের ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার লড়াইয়ে আছেন। মিডল অর্ডারে পরের পজিশনগুলোতে ডেভিড মিলার ও অলরাউন্ডার ক্রিস মরিসকে নিয়ে অবশ্য কোনো চিন্তা নেই গিবসনের। তবে দল যেমনই হোক, নিজেদের ‘চোকার’ দুর্নাম মুছতেও কিন্তু লড়তে হবে গতবারের সেমিফাইনালিস্টদের।