‘অভিযোগকারী ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা হবে’

কোনো ভবনের ফায়ার সেফটি যদি পর্যাপ্ত না থাকে তাহলে আগে ভবন মালিককে সতর্ক করা হবে জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, আর তাতে কাজ না হলে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা। এ ছাড়া, ভবনের সেফটি না থাকলে সিটি করপোরেশনে অভিযোগ জানালে, অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও তিনি জানান।

শনিবার রাজধানীর গুলশানে নগর ভবনে অগ্নি নিরাপত্তা সচেতনতায় সিটি করপোরেশনের ১০টি ‘ভবন পরিদর্শন দলের’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মেয়র।

তিনি বলেন, আপনারা যারা যে যে ভবনে যারা চাকরি করেন তারা নিজেরাই সচেতন হয়ে দেখবেন, সে ভবনটিতে ফায়ার সেফটি আছে কিনা। যদি না থাকে তাহলে আমাদের কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগকারী ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা হবে। অভিযোগ জানালে আমরা সেই ভবনে তাৎক্ষণিক টিম পাঠাব, সতর্ক করব। তাতে কাজ না হলে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চেকলিস্টের মাধ্যমে ভবনের অগ্নিঝুঁকি পরীক্ষা করা হবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ভবন পরিদর্শন দলগুলো ডিএনসিসি এলাকায় অবস্থিত বহুতল ভবনে গিয়ে আগেই তৈরি করা একটি চেকলিস্টের মাধ্যমে ভবনের অগ্নিঝুঁকি পরীক্ষা করবে। কোনো ভবনে অগ্নি-নিরাপত্তা যথেষ্ট না থাকলে সে ভবনের প্রবেশস্থলে ওই ‘ভবনটির অগ্নি-প্রতিরোধ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়, সতর্ক থাকুন’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হবে। তা ছাড়া ভবনে বসবাসকারী বা ভবন মালিককে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হবে।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা উত্তরের ২০টি ভবনকে এ কার্যক্রমে ‘মডেল ভবন’ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে, যাতে অগ্নি নিরাপত্তার সব বন্দোবস্ত থাকবে। প্রথম পর্যায়ে সিটি করপোরেশন ভবনগুলোতে ফায়ার এক্সিট, ফায়ার ডোর ও নিরাপত্তাকর্মীদের ফায়ার ড্রিল (প্রশিক্ষণ) রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখবে।

ডিএনসিসির পাঁচটি অঞ্চলের প্রতিটিতে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে দুটি করে দল গঠন করা হয়েছে। ডিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস, বেসরকারি সংস্থা, বিভিন্ন কমিউনিটির সদস্যদের সমন্বয়ে প্রতিটি দলে ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য থাকবেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই, সচিব রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া, আরবান রিজিলিয়েন্স প্রজেক্ট ডিরেক্টর ড. তারিক বিন ইউসুফসহ করপোরেশন এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি দল।