জয়েন্টে ব্যথা কেন

জয়েন্টে ব্যথার আরেক নাম আর্থরাইটিস। জয়েন্টে ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ হয়ে এ রকম ব্যথা হয়। এর ফলে জায়গাটা ফুলে যায়, লাল হয়ে যায়। ব্যথা এমন হতে পারে, জায়গাটা নাড়ানো যায় না। ব্যথার জায়গাটা শক্ত হয়ে যায়। এক বা একাধিক জয়েন্টে এ রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর এর জন্য কাজ করা দুরূহ হয়ে ওঠে।

প্রকারভেদ

নানা ধরনের আর্থরাইটিস রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো অস্টিও আর্থরাইটিস যেখানে আমাদের অস্থিসন্ধিতে যে নরম হাড়ের মতো আবরণ বা কার্টিলেজ থাকে, সেটি ক্ষয়ে যায়। কার্টিলেজের কাজ হলো জয়েন্টের প্রতিনিয়ত নড়াচড়ায় যেন হাড়ে সরাসরি আঘাত না লাগে, তা নিশ্চিত করা। এটি ক্ষয় হয়ে গেলেই হাড়ে হাড়ে ঘষা খেতে শুরু করে, প্রদাহ হয়, তার থেকেই আর্থরাইটিসের ব্যথার সূচনা। অস্টিও আর্থরাইটিস মূলত হয় হাঁটুতে।

আরেক ধরনের আর্থরাইটিস হলো রিউমাটয়েড আর্থরাইটিস। এটি একটি অটোইমিউন ডিসঅর্ডার অর্থাৎ দেহের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অস্বাভাবিক আচরণের দরুন এ সমস্যা দেখা দেয়। জয়েন্টের ভেতর এক ধরনের কোষকলার আস্তরণ থাকে, যার নাম সাইনোভিয়াম। এটি তরল পদার্থ নিঃসরণের মাধ্যমে কার্টিলেজকে পিচ্ছিল রাখে, হাড় মসৃণভাবে নড়াচড়া করতে পারে। দেহের ইমিউন সিস্টেম এই সাইনোভিয়ামকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করলেই দেখা দেয় রিউমাটয়েড আর্থরাইটিস। এ থেকে পরে হাড়েরও ক্ষতি হতে পারে।

লক্ষণ

যে ধরনের আর্থরাইটিসই হোক না কেন, প্রধান লক্ষণগুলো একই। সাধারণত হাত ও পায়ের ছোট জোড়াগুলো বেশি আক্রান্ত হয়। প্রায়ই সমানভাবে দুই পাশের অর্থাৎ ডান ও বাম দিকের জোড়াগুলোয় ব্যথা হয়। বড় বড় জোড়া যেমনÑ কনুই, কাঁধ, হাঁটু ও গোড়ালিও আক্রান্ত হতে পারে। অনেক সময় ঘাড়েও ব্যথা হতে পারে। কাজ করলে ব্যথা কমে কিন্তু বিশ্রাম নিলে বেড়ে যায় এবং সকালে ওঠার সময় ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে আসে। আক্রান্ত জোড়াগুলো ফুলে যায়।

চিকিৎসা

আর্থরাইটিস চিকিৎসার পাঁচটি ধাপ রয়েছে। ওষুধের মাধ্যমে, ব্যায়ামের মাধ্যমে, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে, বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগে এবং অপারেশনের মাধ্যমে। ওষুধের মাধ্যমেই প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা শুরু করা হয়। সাধারণত ব্যথানাশক ও ক্যালসিয়ামজাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। এ ছাড়া আক্রান্ত অস্থিসন্ধির ব্যথা উপশমে ব্যথানাশক স্প্রে ও লোশনও ব্যবহার করা হয়। তা ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম ও সেঁক। ওজন নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে আর্থরাইটিস রোগীরা ভালো থাকতে পারেন। তাই কিছু কিছু খাবার, যা ওজন বাড়ায় তা এড়িয়ে চলুন। খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হয়। বিকল্প চিকিৎসার মধ্যে আছে মেডিটেশন, ম্যাসাজ থেরাপি, হট অ্যান্ড কোল্ড থেরাপি। রোগটি যখন বেশি হয়, তখন অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত অস্থিসন্ধি প্রতিস্থাপন করা লাগতে পারে।

ভালো থাকতে

হাঁটু মুড়ে বসবেন না।

যেসব কাজ করলে জয়েন্টে চাপ পড়তে পারে, সেগুলো করবেন না।

কমোড ব্যবহার করবেন।

পরিবারে আর্থরাইটিসের ইতিহাস থাকলে আগেভাগেই ডাক্তার দেখাতে হবে।