উত্তাল বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। অভিযুক্ত শিক্ষককে বহিষ্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল রবিবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রায় চার ঘণ্টা বিক্ষোভ করে তারা। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আক্কাস আলীকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এদিন সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের কুশপুত্তলিকাও দাহ করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে বিকেলে আন্দোলন স্থগিত করা হলেও আজ সোমবার সকাল ৯টার মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা না হলে আবারও আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

গত বছরের ডিসেম্বরে সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি অভিযোগ তোলেন একই বিভাগের দুই ছাত্রী। তারা এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুক এবং ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী জানান, ওই শিক্ষক তাদেরসহ তিন শিক্ষার্থীর থিসিসের দায়িত্ব নেন। এরপর বিভিন্ন সময় তিনি ছাত্রীদের বাসায় ও ব্যক্তিগত চেম্বারে ডাকতেন এবং শরীর স্পর্শ করতেন। মোবাইল ফোনেও কুপ্রস্তাব দিতেন। তার কথায় রাজি না হলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাতেন। ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ভুক্তভোগীরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপরই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি ছাত্রীদের দেওয়া অভিযোগপত্র ও অডিও রেকর্ড কে বা কারা ফেইসবুকে পোস্ট করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সরব হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সিএসইর সহকারী অধ্যাপক আক্কাস আলী দাবি করেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ‘পলিটিক্সে’র শিকার। একই বিভাগের অন্য শিক্ষকের সঙ্গে বিভাগীয় প্রধান হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলে আসছিল। এরই জেরে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি তুলেছে। এগুলো হলোÑ অনতিবিলম্বে আক্কাস আলীকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করাসহ ক্যাম্পাসে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত, কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো শিক্ষক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তের হুমকি দিলে শাস্তির ব্যবস্থা, কোনো শিক্ষক কার্যদিবস ছাড়া ও বিভাগীয় অফিস ছাড়া কোথাও শিক্ষার্থীকে ডাকতে পারবেন না, অনতিবিলম্বে বিভাগভিত্তিক ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। তারা বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন ও প্রক্টর আশিকুজ্জামান ভুইয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন আবদুল কুদ্দুছ মিয়া বলেন, এ ঘটনায় অধ্যাপক ড. আবদুর রহিমকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিলেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে রবিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. নূর উদ্দিন আহম্মেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত আক্কাস আলীকে সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকেও অব্যাহতি দিয়েছে প্রশাসন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।