মালয়েশিয়ায় দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজন দাউদকান্দির রাজিব

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে একজন কুমিল্লার দাউদকান্দির রাজিব মুন্সি। তার বাড়ি উপজেলার সুন্দুলপুর ইউনিয়নের ঢাকারগাঁও গ্রামে চলছে শোকের মাতম। সে ওই গ্রামের ইউনুস মুন্সির ছেলে।

নিহতের বাবা ইউনুস মুন্সি জানান, রোববার মালয়েশিয়া থেকে রাজিবের সহকর্মী আমাদের পাশের বাড়ীর ভাতিজা মামুন ফোনে দুর্ঘটনা ও নিহত হওয়ার সংবাদ দেন।

তিনি ছেলের লাশ দ্রুত দেশে আনার আকুতি জানান।

নিহত রাজিবের চাচা জসিম উদ্দিন, আব্দুল লতিফ বেপারীসহ এলাকাবাসী জানান, এই ছেলেটি (রাজিব) জীবনে অনেক কষ্ট করেছে। এক বছর বয়সে তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করলে তার মা তাকে নিয়ে পাশের উপজেলা বরুড়ায় মামার বাড়িতে চলে যায়।

নিহতের মামা মফিজুল ইসলাম ফোনে জানান, বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা ধার চেয়ে ১ বছর বয়সের ভাগিনা রাজিবসহ বোনকে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় তার বাবা ইউনুস।

তিনি বলেন, “ওইসময় টাকা দিতে না পাড়ায় আমার বোনকে না জানিয়ে আরেকটি বিয়ে করে। সেই থেকে বোন এবং ভাগিনাকে আমরাই লালন পালন করে আসছি। নয় মাস আগে ধারদেনা এবং এনজিও থেকে ঋণ তুলে তাকে বিদেশে পাঠাই।”

এর আগে তার বাবা ভোটার আইডি কার্ডে তার মায়ের নাম কুহিনুর আক্তার না দিয়ে সৎমা ফেরদৌসী বেগমের নাম দেয়। সেই নামেই রাজিবের পাসপোর্ট করা হয়েছিল।

মা কুহিনুর আক্তার ছেলের শোকে অজ্ঞান থাকায় কোনো কথা বা বক্তব্য নেয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের কাছের একটি সড়কে বাংলাদেশিসহ আরও কয়েকটি দেশের শ্রমিকরা কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বাস দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে পাঁচ বাংলাদেশিসহ কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে সাত বাংলাদেশিসহ ৩২ জন।