নরসিংদীর রায়পুরার পূর্বশত্রুতার জেরে ঘরের ভেতর ৩ বোনসহ ৪জনকে আটকে রেখে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দগ্ধ অবস্থায় ওই ৪ জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার লুচনপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন- উত্তর বাখর নগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মুক্তামনি (১৭), তার ছোটবোন একই স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সুইটি আক্তার (১৪), ছোটবোন একই স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী প্রীতি আক্তার (১২) ও তাদের ফুফু খাতুন নেছা (৬০)।
বড় বোন রত্না আক্তার অভিযোগ করেন, ডিসেম্বরে বাবা শামসুল হক মারা যাওয়ার পর তাদের প্রতিবেশী শিপন, রবিন, লোকমান, কাজল, আলআমিন, ইদ্রীস, ইমনরা তাদের জমিজমা আত্মসাতের চেষ্টা করছিলেন। মা অনোয়ারা বেগম কয়েকদিন আগে তাদের নানির বাসায় বেড়াতে যান। বাড়িতে ওই ছোট ৩বোন ছিল। বিকেলে ফোন করে ফুফুকে তাদের বাসায় আসতে বলেন। এরপর রাতে একই রুমে ঘুমিয়ে ছিলেন তারা ৪ জন।
তাদের অভিযোগ, “রাতে রুমের দরজা বাইরে থেকে আটকে ভেতরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় ওই প্রতিবেশীরা। এর সঙ্গে ককটেলও ছোড়েন তারা। ভেতরে থাকা তারা ৪জনই দগ্ধ হয়। এরপর পেছনের জানালা ভেঙে তারা বের হন।
বড়বোন রত্নার অভিযোগ, অনেকদিন আগে রায়পুরায় হত্যা মামলার মিথ্যা আসামি করা হয় তার দুই ভাই সোহাগ ও বিপ্লবের বিরুদ্ধে। সোহাগ ওই মামলায় কারাগারে আছেন।
বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের মেডিকেল অফিসার ডা. এনায়েত কবির জানান, ৪ জনের সবার দুই হাত, মুখ পুড়ে গেছে। সবারই শ্বাসনালি দগ্ধ হয়েছে। মুক্তামনির ১০ শতাংশ, সুইটি আক্তারের ১৫, প্রীতি আক্তার ১৫ ও ফুফু খাতুন নেছার ১২ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে।