দগ্ধ সেই মাদ্রাসাছাত্রীর অস্ত্রোপচার

ফেনীর দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এই অস্ত্রোপচার ভালোভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই স্কারোটমি অস্ত্রোপচার করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, “গতকালই আমরা তার স্কারোটমি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় করতে পারিনি। সকালে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার পর তারাও আমাদের একই পরামর্শ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তার শ্বাস নেবার সুবিধা হবে।”

এর আগে রাফিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ৫ ঘণ্টার বিমানযাত্রা তার জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে তা করা হয়নি।

রাফির চিকিৎসার ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের কথা হয়।

ঢামেকের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডাক্তার সামন্ত লাল সেন বলেন, “সকাল ৯টার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের সাথে আমাদের দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে। লাইফ সাপোর্টে থাকা রাফিকে এই অবস্থায় সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়াটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায় বলে তারা জানিয়েছেন। সিঙ্গাপুর হাসপাতালে চিকিৎসকরা রাফির জন্য নতুন কিছু চিকিৎসা সাজেশন দিয়েছেন। সেই সাজেশনগুলোও অনুসরণ করা হবে।”

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম বলেন, “রাফির অবস্থা কিছুটা ইমপ্রুভ করছে। তবে বলা যাবেনা সে ভালো হয়ে উঠছে। এখনও সে শঙ্কটাপন্ন।”

৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি।

মাদ্রাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করেছে- এমন সংবাদ পেয়ে নুসরাত জাহান ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা ৪/৫জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।