ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) পুড়িয়ে মারার চেষ্টায় জড়িত শম্পা সন্দেহে এক ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে তাকে আটক করা হয়েছে বলে সোনাগাজী-দাগনভূঞা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গায়ে আগুন লাগানোর পর কেউ একজন ‘শম্পা চল’ বলে একজন আরেকজনকে ডেকেছে- এমনটি শুনেছেন বলে চিকিৎসকদের কাছে তথ্য দিয়েছেন অগ্নিদগ্ধ রাফি। সেই সূত্রে পুলিশ তাকে আটক করে। শম্পাসহ পুলিশ এ ঘটনায় ১০ জনকে আটক করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুলিশের হাতে আটক শম্পার প্রকৃত নাম উম্মে সুলতানা পপি। সে সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। সেও ওই মাদ্রাসার ছাত্রী এবং রাফির শ্লীলতাহানির ঘটনায় আটক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলার শ্যালিকার মেয়ে।
উল্লেখ্য, ৬ এপ্রিল শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করেছে এমন সংবাদ দিলে সে ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যায়। সেখানে মুখোশপরা ৪/৫জন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে করা মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। সে অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।
এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়ার লোভ দেখিয়ে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। ওই ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।