দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন করেছেন চিকিৎসকরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে বেলা ৩টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও শিক্ষানবিস চিকিৎসকরা। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাসপাতালে ভর্তি রোগীসহ দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা শত শত মানুষ। তবে চিকিৎসকরা এই কর্মবিরতির কারণ জানাননি।
হাসপাতালের প্রবেশদ্বার বন্ধ রেখে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দেওয়া থেকে বিরত থাকেন চিকিৎসকরা। এ সময় জরুরি বিভাগের বাইরে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎকদের বিভিন্ন সেøাগানে দিতে দেখা যায়। তারা হাসপাতালকে বহিরাগতদের প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি জানান।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালের প্রবেশদ্বার বন্ধ থাকায় জরুরি রোগীদের দেখা যায় আহাজারি করতে। চিকিৎসকদের এমন কর্মবিরতি পালনে রোগীর সঙ্গে দেখা করতে আসা আত্মীয়-স্বজনরাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ভেতর থেকে বাইরে আসতে না পেরে অনেক গুরুতর রোগীর ওষুধও কিনতে পারেননি রোগীর স্বজনরা।
গত সোমবার রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার চাউলিয়াপট্টির সাধুর মোড় এলাকার আমিনুল ইসলাম (৫৫) নামে এক যক্ষ্মারোগী কোমরের ব্যথা নিয়ে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিতে গেলে কর্মরত চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। পরে আমিনুল ইসলামের স্ত্রী বেগম বানুকে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক রোগীর জন্য ওষুধ আনতে বলেন।
বেগম বানু বলেন, ‘আমাকে প্রথমে একজন ডাক্তার তিনটা ওষুধ আনতে বলেছেন। একটু পরেই আরেকজন ডাক্তার এসে সেই ওষুধ বাদ দিয়ে নতুন ওষুধ আনতে বলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি ডাক্তারকে বলেছি, স্যার আগে তো তিনটা ওষুধ আনতে বলেছেন। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফয়সাল আহমেদ আমাকে বলেন, এই আপনি কি আমার থেকে বেশি বুঝেন, আমি ডাক্তার নাকি আপনি ডাক্তার। একপর্যায়ে আমাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।’ এ ঘটনার পর রোগীকে তারা চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে জানান ওই নারী। বিষয়টি জানার পর তার ভাতিজা ও ভাগিনা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা ওই দুজনকে মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। রোগীর ভাতিজা রকেট বলেন, ‘চিকিৎসকদের এমন আচরণের কথা শুনে ছুটে যাই হাসপাতালে। আমি বিষয়টি শুনতে চাইলে ডাক্তাররা আমাকে ও আমার খালাতো ভাইকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।’
কর্মবিরতি চলাকালে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বদরুজ্জামান বলেন, ‘আমি দাঁতের ব্যথায় বাঁচি না। আমাকে দাঁতের অপারেশন করার জন্য ডাক্তার আসতে বলেছেন। কিন্তু এসে দেখি তাদের এই কা-।’ রেহানা পারভীনের বাবা গুরুতর অবস্থায় ভর্তি আছেন হাসপাতালে। তিনি পার্বতীপুর থেকে এসেছেন সকালে। কিন্তু গেটের তালা বন্ধ থাকায় ভেতরে ঢুকতে পারেননি। কর্মবিরতি পালনকারী চিকিৎসক ও এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ইসরাক শাহরিয়ার বলেন, ‘রোগীরা যাতে আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করেন এসব বিষয় প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।’
এ বিষয়ে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহানের সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলতে যান। আধঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করার পরও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। অন্যদিকে কোনো রোগীকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে দেননি চিকিৎকরা। হাসপাতালের ভেতরে থাকা রোগী ও স্বজনরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তাদের সেই সুযোগ দেননি চিকিৎসকরা।