নানা জটিলতা সত্ত্বেও দেড় বছর আগে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় নগরের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার। এতদিন পর মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করেছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এজন্য তারা স্থানীয় সরকার (এলজিইডি) মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠিয়েছে। তবে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। তাদের দাবি, টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।
চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বছর দেড়েক আগে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার গাড়ি চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতদিন পরে এসে ফ্লাইওভারে চলাচলকারী যানবাহনের কাছ থেকে টোল আদায় করা হলে জনমনে অসন্তোষ দেখা দেবে, নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমনকি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণœ হবে। তাছাড়া ফ্লাইওভারটি নির্মাণের পর চসিক কর্র্তৃপক্ষকে তা এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।’
এর আগে সিডিএর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আ ন ম ফয়জুল হক স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ফ্লাইওভারে টোল আদায়ের বিষয়ে চসিকের মতামত চাওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ফ্লাইওভারের ওপর এলইডিসহ বিভিন্ন ওয়াটের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বৈদ্যুতিক বাতির বিল পরিশোধ, ফ্লাইওভারের ওপরে-নিচে সৌন্দর্যবর্ধন কাজের পরিচর্যায় প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হয়। এসব খরচ মেটাতে এবং ফ্লাইওভারের সুষ্ঠু ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে টোল আদায় করতে চায় সিডিএ।
গত সোমবার একই মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবকে চিঠি দিয়েছে চসিক। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফ্লাইওভারে টোল আদায়ের বিষয়টি সমর্থন করে না। টোল আদায় করা হলে সরকারের ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই টোল আদায় করা সমীচীন হবে না। চসিকের কাছে হস্তান্তর করা হলে টোল আদায় ছাড়াই ফ্লাইওভারের সৌন্দর্যবর্ধনসহ অন্যান্য বিষয় রক্ষণাবেক্ষণে মেয়র আ জ ম নাছিরের সম্মতি আছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
ফ্লাইওভারটিতে গাড়ি চলাচলের সুবিধার্থে ৬টি র্যাম্প নির্মাণের কথা থাকলেও শুধু ষোলশহর ২ নম্বর গেট ও জিইসি জংশনে র্যাম্প নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে খুলশী-ফৌজদারহাট থেকে আসা-যাওয়া করা গাড়িগুলো ফ্লাইওভারের সুবিধা নিতে পারছে না। এতে অনেকেই ক্ষুব্ধ। এমনকি ফ্লাইওভারের নিচে শপিংমল ও দোকান নির্মাণকাজ নিয়েও নগরবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এক্ষেত্রে চসিক ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আপত্তি থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে সিডিএ।