কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পাবনায় ১৫ জেলার ৫৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ

স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন দেশের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণবঙ্গের ১৫ জেলার ৫৬৫ চরমপন্থি সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পাবনার শহীদ আমিনউদ্দিন স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তারা। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোয় ফেরা এসব চরমপন্থিকে পুনর্বাসনে সহযোগিতা করবে সরকার।

চরমপন্থি সন্ত্রাসীদের একসময়ের অভয়ারণ্য পাবনায় গতকাল ছিল অন্যরকম একটি দিন। চার যুগেরও বেশি সময় ধরে যাদের কাছে জিম্মি ছিল সাধারণ মানুষ, নৃশংসতার পথ ছেড়ে এদিন তারাই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে। আর এই ইতিহাসের সাক্ষী হতে আসা হাজারো মানুষের ছিল তাই বাঁধভাঙা আনন্দ। এদিন সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণবঙ্গের ১৪টি জেলা থেকে অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন বিভিন্ন চরমপন্থি দলের সদস্যরা। পরে বিকেলে পূর্ববাংলার সর্বহারা, পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা), নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি ও কাদামাটি দলের

চরমপন্থি সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। অতীত অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়ে তারা জানান, প্রতিনিয়ত মৃত্যু থেকে পালিয়ে ফেরা অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি পেতেই তাদের এই আত্মসমর্পণ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘দেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ। আজ যারা আত্মসমর্পণ করলেন তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে। সরকার চরমপন্থা অনুসরণকারীদের ভালো পথে ফেরার সুযোগ দিয়েছে। যারা আত্মসমর্পণ করলেন, তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা দিয়েছেন।’

যারা এখনো অন্ধকার জগতে রয়েছেন তাদের সুপথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তারা যদি ফিরে না আসে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থি সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে বিভিন্ন মামলা থাকার কথা জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘আত্মসমর্পণ করায় তাদের প্রতি সরকারের সহানুভূতি থাকবে। তবে বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ আরও কঠোর হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পথচ্যুত মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে কাজ করছে সরকার। আর পুলিশ তাদের আইনি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। উগ্রপন্থা ও চরমপন্থা দমনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে রোল মডেল। আজ যেসব চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করছে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে। যাতে তারা সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরে আসতে পারে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাংসদ শামসুল হক টুকু, আহমেদ ফিরোজ কবির, মকবুল হোসেন, শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, গোলাম ফারুক প্রিন্স, প্রকৌশলী এনামুল হক, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ নাদিরা ইসলাম জলি, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন ও পাবনার জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম। এর আগে আত্মসমর্পণকারীদের মাঝে আর্থিক প্রণোদনা বিতরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ৫৭৫টি দেশি অস্ত্র ও ৬৮টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেন চরমপন্থিরা।