রাখাইনে আরাকান আর্মির হামলায় ২০ সেনা নিহত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির হামলায় আরও ২০ সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতি জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাতে রাখাইনের প্রাচীন রাজধানী মিয়াত উর একটি পুলিশ রেজিমেন্ট ও সেনাঘাঁটিতে অতর্কিত হামলা চালায় স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির যোদ্ধারা। গত সপ্তাহেও সংগঠনটির সদস্যরা প্রায় ২০ সেনাসদস্যকে হত্যা করে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিও তুন অং জানান, ৩১নং পুলিশ রেজিমেন্ট এবং মিয়াত উ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে লে হ্নিন তং এলাকার সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে আরাকান আর্মির সদস্যরা। দ্রুত সেখানে আরও সেনাসদস্য পাঠানো হলেও আরাকান আর্মি অতর্কিত হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটায়। পুলিশের ওই রেজিমেন্ট থেকেই মিয়াত উ অঞ্চলের অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছে।

তুন অং আরও জানান, এ ঘটনার পর গতকাল সকাল পর্যন্ত ওই অঞ্চলে তিনটি জঙ্গিবিমান, দুটি বোমারুবিমান ও কয়েকটি হেলিকপ্টার দিয়ে যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে সামরিক বাহিনী।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ মিন তুন হামলার ঘটনা স্বীকার করলেও হতাহতের সংখ্যা জানাননি। তবে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন তেত থুরা সোয়ের স্ত্রী ও সহকর্মীরা অন্যদের সঙ্গে তার নিহতের খবর জানিয়ে অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। এদিকে আরাকান আর্মির মুখপাত্র ইউ খিন থুকলা ইরাবতিকে জানান, দুই ঘাঁটি থেকে তারা কয়েক কারাবন্দিকে আটক করেছেন। এছাড়া সামরিক বাহিনীর সাতটি স্পিডবোট ধ্বংস, সাতটি অ্যাসল্ট রাইফেল ও একটি এমজি-৪২ মেশিনগান জব্দের দাবি করেছেন।

গত সপ্তাহে রাখাইনের বুথিডংয়ে আরাকান আর্মির হামলায় সেনাবাহিনীর একটি স্কোয়াডের সব সদস্য নিহত হয়। সেখানে প্রায় ২০ সেনা ছিল বলে জানা গেছে। প্রায় একই সময় হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে ৩০ বেসামরিক রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করে সেনাবাহিনী।

তিন মাস আগে রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়েছে। লড়াইটি চলছে মূলত সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে। আরাকান যোদ্ধারা জাতিগতভাবে রাখাইন এবং প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। এই সংঘাতে চলতি বছরের শুরুর দিক থেকে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে অভিযান চালায় তাতে বহু রোহিঙ্গা হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয় এবং সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘ বলছে, মিয়ানমারের বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের চাপে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও তা বাস্তবায়ন শুরু করেনি মিয়ানমার।