পরীক্ষা কেন্দ্রে কান্নায় ভেঙে পড়েন নুসরাতের সহপাঠীরা

নুসরাত জাহান রাফি বিহীন আজ বৃহস্পতিবার। সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা চলছে। কেন্দ্রের ৮ নম্বর কক্ষে ফিকহ্ ২য় পত্রের পরীক্ষা চলছে। সবাই পরীক্ষায় দিচ্ছে শুধু নেই নুসরাত জাহান রাফি। খালি পড়ে রয়েছে তার সিটটি।

বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে সবাইকে কাঁদিয়ে চির বিদায় নেন রাফি।

সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের সচিব নূরুল আফছার ফারুক জানান, আজ সকালে পরীক্ষা দিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাফির সহপাঠীরা। কোনোভাবেই তারা রাফির মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। 

“পরীক্ষার্থীদের মতো আমরাও তার এই অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারছি না।” বলেন কেন্দ্র সচিব।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর আমিন বলেন, “আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি রাফি অন্যায়ের প্রতিবাদী ও মেধাবী একজন ছাত্রী। তার এই মৃত্যুতে আমরা প্রচণ্ড শোকাহত।”

শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে নুসরাত ওই চার তলার ছাদে যান। সেখানে মুখোশ পরা চারজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

নুসরাত শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে থানায় মামলা করলে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ, অধ্যক্ষের পক্ষের লোকই পরিকল্পিতভাবে নুসরাতের গায়ে আগুন লাগায়।