ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থীকে (১৮) কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
গত শনিবার মাদ্রাসার অভ্যন্তরে সাইক্লোন সেন্টারের তিনতলার ছাদে নিয়ে আলিম পরীক্ষার্থীর গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনার পরদিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিমকে প্রধান করে ও সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ এবং জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী সলিম উল্যাহকে সদস্য করা হয়। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান।
এদিকে তিন কার্য দিবস ১০ এপ্রিল বুধবার শেষ হলেও কাজ শুরুই করতে পারেনি তদন্ত কমিটি। ওইদিন জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এনামুল করিম আরও সাতদিন সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও বর্ধিত তারিখ জানানো হয়নি।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শুরু না হলেও বৃহস্পতিবার থেকে তদন্ত শুরু করেছি। জেলা প্রশাসক যতদিন সময় বর্ধিত করবেন ওই সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবো।
উল্লেখ্য, ৬ এপ্রিল শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। সেখানে ছাদের ওপর মুখোশপরা ৪/৫জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে বোরকা পরা ৪ জন সহ অজ্ঞাতদের নামে মামলা দায়েরের পর ওইরাতে এজাহার পরিবর্তন করে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ ৮ জনের মান উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।
এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।