চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বারবার মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করার ঘটনা ঘটছে। গত ৬ মাস ধরে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। সেই সঙ্গে উজাড় করা হচ্ছে উপকূলীয় বনাঞ্চল। ফলে আসন্ন বর্ষায় বেড়িবাঁধে ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপকূলীয় বন বিভাগ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার নডালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের কয়েক ফুটের মধ্যে মাটি কেটে বিশালাকৃতির পুকুর বানানো হয়েছে। ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বেড়িবাঁধ ভেঙে সাগরে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আর এসব স্থান থেকে মাত্র ২০-২৫ ফুট দূরে খাল খননের নামে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে অন্যত্রে।
এরই মধ্যে মান্দারীটোলা মোটরভিটা এলাকায় বেড়িবাঁধের পশ্চিমে প্রায় ১৫ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি কাটা হয়েছে। একই ইউনিয়নের মিয়াজিপাড়ার দুই স্থানে মাটি কেটে বড় গর্তের সৃষ্টি করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষক মফিজুর রহমান বলেন, ‘বেড়িবাঁধ হুমকিতে ফেলে ও ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি বিক্রি করলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।’ স্থানীয়দের আরও কয়েকজন জানান, প্রতিবার প্রভাবশালীরা মাটি কাটে আর দায়সারা একটা জবাব দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করে প্রশাসন।
উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকার মাটি কাটার নেপথ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাড়বকুণ্ড ইউপি সদস্য ইকরাম বলেন, ‘ব্যক্তিগত জায়গা থেকে কারা মাটি কাটছে আমার জানা নেই। তবে চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা খাল কাটছি।’ বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদাকাত উল্লাহ মিয়াজী বলেন, ‘বর্ষায় পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল পুনঃখনন জরুরি। তাই জনগণের দাবি পূরণে খাল খনন করা হচ্ছে।’
সীতাকুণ্ড পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার তারেক বলেন,’ এর মধ্যে আমরা পাউবোর জায়গায় মাটি কাটা বন্ধ করেছি ও ব্যবস্থা গ্রহণে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’ উপকূলীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেন, বন বিভাগের জায়গা থেকে মাটি কাটার খবর পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।