ভারতের লোকসভা নির্বাচনের সাত ধাপের প্রথমটিতে ৯১টি সংসদীয় এলাকায় ভোটে অংশ নিয়েছেন বিপুলসংখ্যক ভোটার। ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত এলাকায় এ ভোটে অন্ধ্রপ্রদেশের তাড়িপত্রি এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে টিডিপি ও ওয়াইএসআরসিপির কর্মীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। প্রথম ধাপকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী ও অখিলেশ যাদবের বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) ও সমাজবাদী পার্টির (এসপি) জোটের বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে জানানো হয়, গতকাল ভোট শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় নির্বাচন কমিশন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, বিপুলসংখ্যক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এমনকি ছত্রিশগড়ের দান্তেওয়াড়ার শ্যামাগিরিতে ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। গত মঙ্গলবার দান্তেওয়াড়ায় ওঁৎ পেতে থাকা মাওবাদীদের হামলায় বিজেপির বিধায়ক ভিমা মাণ্ডভি নিহত হয়েছিলেন।
উত্তর প্রদেশে ৬৩ শতাংশ ভোট : উত্তর প্রদেশের আটটি লোকসভার আসনে দিন শেষে ভোট পড়ে ৬৩.৬৯ শতাংশ। প্রথম ধাপে সবচেয়ে বেশি আসন থাকা রাজ্যটির পশ্চিমাঞ্চলে ভোট হয়। রাজ্যের সাহারানপুরে সর্বোচ্চ ৭০.৬৮ শতাংশ ভোট পড়ে। এ ছাড়া বিকেল ৫টা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ৮১, বিহারে ৫০.২৬, তেলেঙ্গানায় ৬০.৫৭, মেঘালয়ে ৬২, মনিপুরে ৭৮.২০, লাক্ষাদ্বীপে ৬৫.৯ ও আসামে ৬৮ শতাংশ ভোট পড়ে।
সিআরপিএফ সদস্যদের ওপর গুলি : সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, মহারাষ্ট্র রাজ্যের গাদচিরোলির ধানোরার কেন্দ্র থেকে ফেরার পথে ১১৩ ব্যাটালিয়নের সদস্যদের ওপর গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। পাল্টা জবাব দেয় জওয়ানরা। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
উড়িষ্যার গ্রামে ভোট বর্জন : উড়িষ্যা রাজ্যের কালাহান্ডি জেলার ভেজিপাদার গ্রামের বাসিন্দারা প্রথম ধাপের ভোট বর্জন করেছে। তাদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ জানানোর পরও তাদের গ্রামের সঙ্গে বাইরের যোগাযোগের ভালো রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি।
বিএসএফের ফাঁকা গুলি : পরিচয়পত্র ছাড়া ভোট দেওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যরা উত্তর প্রদেশের কান্ধলা থানাধীন রসুলপুর গুজরান গ্রামে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা অজয় কুমার জানান, কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার বাধা দিলেও লোকজন জোর করে কেন্দ্রে ঢুকতে চাইছিলেন। পরে বিএসএফ ব্যবস্থা নেয়। পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে শান্তিপূর্ণভাবে সেখানে ভোট হয়।
দলিত ভোটারদের বাধার অভিযোগ : উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে দলিতদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে বহুজন সমাজ পার্টি। দলটির এক সদস্য এএনআইকে বলেছিলেন, উচ্চবর্ণের লোকজন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
কাশ্মীরে ইভিএমে ‘গোলযোগ’ : জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের বারামুল্লার আসনগুলোতে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৪৬.১৭ শতাংশ ভোট পড়ে। কিছু কিছু এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ ইভিএমের কারণে বিক্ষোভ দেখা যায়। দুটি আসনে ৩৩ লাখের বেশি ভোটার ছিল। রাজ্যের দুই দল ন্যাশনাল কনফারেন্স ও পিডিপির অভিযোগ, পোশাকধারী সদস্যরা বিজেপির পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জবরদস্তি করে।