দগ্ধ নুসরাতকে নিজের পাঞ্জাবি পরিয়ে দেন আবু বকর

ফেনীর সোনাগাজীতে সন্ত্রাসীদের আগুনে নিহত নুসরাত জাহান রাফিকে উদ্ধারে এগিয়ে এসেছিলেন আবু বকর। তার সঙ্গে ছিলেন এক পুলিশ কনস্টেবল এবং ওই মাদ্রাসার নিরাপত্তা কর্মী।

শনিবার একদল দুর্বৃত্ত নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার নুসরাতের মৃত্যু হয়। তার ওপর নির্যাতন এবং তাকে হত্যার ঘটনা দেশবাসীকে নাড়া দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে নির্দেশ দেন। নুসরাতের জানাজায় বৃহস্পতিবার সোনাগাজীতে লাখো মানুষ জড়ো হয়। দেশজুড়ে শুক্রবারও বিক্ষোভ হয় এ ঘটনায়। 

মৃত্যু শয্যায় নুসরাত জানায়, চার বোরকা পরিহিত ব্যক্তি তার শরীরে আগুন দেয়। এ সময় তার হাত বাঁধা ছিল। আগুন দেওয়ার পর তাকে দৌড়াতে বলে তার। যন্ত্রণায় এ সময় চিৎকার দিতে থাকে নুসরাত। 

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্র আবু বকর জানান, 'নুসরাতের চিৎকার শুনে আমি দৌড়ে সেদিকে ছুটে যাই। আমি দেখতে পেলাম নিচে থেকে আরো একজন পুলিশ সদস্য দৌড়ে আসছে। আমরা দুই জনে আগুন নিভানোর মত কিছু খুঁজে পাচ্ছিলাম না'।

'পরে পা মুছার পাপোষ দিয়ে নুসরাতের শরীরের আগুন নিভাই'।

'আগুন নিভানোর পর দেখি নুসরাত বিবস্ত্র অবস্থায় আছে। আমি তখন নিজের পাঞ্জাবী খুলে নুসরাতের শরীর ঢেকে দেই'।