নরসিংদী শহর সমাজসেবা কার্যালয়

প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা আত্মসাৎ

সরকারের খাতা-কলমে সেলিম সরকার প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধাভোগী। অথচ ভাতার টাকা পাচ্ছেন না তিনি। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সেই টাকা আত্মসাৎ করছেন অন্য কেউ। শারীরিক প্রতিবন্ধী সেলিম সরকার নরসিংদী শহরের দত্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বয়স ৫২ বছর। অভাব-অনটন ও শরীরে নানা রোগ নিয়ে বিনাচিকিৎসায় ধুঁকছেন তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, নরসিংদী শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের পৌর সমাজকর্মী মোবারক হোসেনের সহযোগিতায় ১২ বছর ধরে প্রতিবন্ধী সেলিমের ভাতার টাকা আত্মসাৎ করছেন তার (সেলিম) ভাই আসলাম সরকার।

সেলিম সরকারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, হাড্ডিসার শরীরটি নড়াতেও কষ্ট হচ্ছে তার। কথা বলার শক্তিটুকুও নেই। দুই বোন প্রতিবন্ধী সেলিমের সেবাযত্ন করেন। বড় বোন রাবেয়া আক্তার রুবি বলেন, ২০০৭ সালে সাবেক কমিশনার (কাউন্সিলর) এম এ বাছেদ সেলিম সরকারের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেন। পৌর সমাজকর্মী মোবারক হোসেনের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে সেলিমের প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাৎ করে আসছেন তারই সহোদর আসলাম সরকার। এমনকি তাদের মা রেহেনা বেগমের নামে বয়স্ক ভাতা চালু থাকলেও তিনি তা জীবদ্দশায় ভোগ করে যেতে পারেননি। সে টাকাও আত্মসাৎ করেন আসলাম। মা ও ভাইয়ের ভোটার আইডি কার্ডসহ ভাতা সংক্রান্ত কাগজপত্রও তিনি নিজের কাছে রেখে দেন।

প্রতিবন্ধীর নিকটাত্মীয় মোস্তফা মাহবুব শাকী জানান, তার শ্যালকের দুই প্রতিবন্ধী ছেলে আশরাফুল ও নাঈমের ভাতার টাকা আত্মসাৎ করছেন পৌর সমাজকর্মী মোবারক হোসেন ও আসলাম সরকার।

অভিযুক্ত আসলাম সরকার বলেন, ‘পূর্বে প্রতিবন্ধীর ভাতা তুলে মায়ের হাতে দিয়েছি। তিনি মারা যাওয়ার পর বোনদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়। ফলে গত দুই বছর আর ভাতার টাকা দেওয়া হচ্ছে না।’ কিন্তু অন্যের প্রতিবন্ধী ভাতা কীভাবে তোলেন এমন প্রশ্নের জবাবে জানান, ভাতার বই সমাজসেবা কার্যালয়ের মোবারকের কাছে থাকে। তিনি টাকা উঠিয়ে আসলামকে দেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন নরসিংদী পৌর সমাজকর্মী মোবারক হোসেন।  তিনি বলেন, ‘সেলিম সরকার অসুস্থ হওয়ায় তার ভাই আসলাম সরকারকে নমিনি করা হয়। ফলে তিনি প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা উত্তোলন করেন। সেই টাকা তিনি কী করেন সেটা আমি বলতে পারব না।’

নরসিংদী শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।