টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে তিন দফায় রাতভর ধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, কোদালিয়া এলাকার আলম মিয়ার ছেলে ইউসুফ রানা (২৫), আব্দুল রশীদের ছেলে মো. রবিন (২৫), মো. রবিকুল ইসলামের ছেলে তানজীরুল ইসলাম তাছিন (২২), ৮তলা মোড় এলাকার মৃত মজনু মিয়ার ছেলে মো. মফিজ (২১), একই এলাকার আল বিরুনীর ছেলে ইব্রাহিম (২০) ও দেওলা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২১)। এ ঘটনায় জড়িত দেওলা এলাকার হাসান সিকদার (২২) ও প্রাইভেটকার চালক উজ্জ্বল (২৫) পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে স্বামী স্ত্রী শ্বশুরবাড়ি টাঙ্গাইলের কালীহাতি উপজেলার আউলিয়াবাদ বেড়াতে যান। ওই দিনই তারা দুজনে কালীহাতি থেকে সিএনজি চালিত অটোরিক্সাযোগে এলেঙ্গা এবং সেখান থেকে বাসযোগে নতুন বাস স্ট্যান্ড নাভানা পেট্রোল পাম্পের সামনে রাত সাড়ে ১০টায় নামেন।
সেখান থেকে স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল মির্জাপুরের গোড়াই যাওয়ার জন্য যানবাহন খুঁজছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা পেট্রল পাম্পের পেছনে নিয়ে মারপিট করে মোবাইল ও টাকা পয়সা নিয়ে নেয়। স্বামীকে মারপিট করা দেখে স্ত্রী এগিয়ে যান। ওই সময় স্ত্রীকে প্রথমে ইউসুফ রানা নাভানা পেট্রোল পাম্পের পেছনে একবার ও ডিসি লেকের পাশে মো. রবিন এবং ইউসুফ পুনরায় ধর্ষণ করে।
পরবর্তীতে রবিন মোটর সাইকেলে জোরপূর্বক মহিলার স্বামীকে উঠিয়ে দেওলা নার্সারির সামনে রেখে চলে যায়। এর পর আবার মো. রবিন তার স্ত্রীকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে সাবালিয়া এলাকার চোরজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে পুন:রায় ধর্ষণ করে।
এ সময় স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে হাসপাতাল গেটে টহলরত পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চোরজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে গৃহবধূকে উদ্ধার ও রবিনকে গ্রেপ্তার করে।
পরে আটক রবিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত আরো পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টাঙ্গাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। রাতেই দেওলা পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
ধর্ষিতা গৃহবধূকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান, নির্যাতিতার ২২ ধারায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার সরকারের কাছে প্রদান করেন। এ ছাড়া মামলার মূল তিন আসামি মো. ইউসুফ রানা, রবিন ও জাহিদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় ধর্ষণের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ড ডা. জাকিয়া সুলতানা জানিয়েছেন প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বিপিএম শনিবার বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিং-এ জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে। জড়িত অন্য দুই আসামি হাসান সিকদার ও উজ্জ্বলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।