মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি শাহাদত হোসেন শামিম ও নুর উদ্দিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
রোববার বেলা আড়াইটা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত প্রায় ১১ ঘণ্টা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন) তাহেরুল হক চৌহান বলেন, নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামিম ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক তথ্য উঠে এসেছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তার ও তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে পরবর্তীতে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানান চৌহান।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে নুর উদ্দিন এবং পরদিন শুক্রবার সকালে মুক্তাগাছা থেকে শাহাদাত হোসেন শামিমকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। নুর উদ্দিন নুসরাত হত্যা মামলার ২নং আর শাহাদাত হোসেন শামিম ৩নং আসামি।
সোনাগাজীর চাঞ্চল্যকর নুসরাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয় আসামি এবং এজাহারবহির্ভূত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাসহ ১১ জন আসামি রিমান্ডে আছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে এমন সংবাদ দিলে সে ওই বিল্ডিংয়ের তিন তলায় যান।
সেখানে মুখোশপরা ৪-৫ জন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। সে অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
গত বুধবার রাত ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি।
এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।