অভিনেত্রী-রাজনীতিবিদ জয়াপ্রদার পোশাক নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে বিপাকে পড়লেন ভারতের উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রভাবশালী নেতা আজম খান। আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, রামপুর কেন্দ্রের এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে বলা হয়েছে নারীর ‘সম্ভ্রমহানি’ করেছেন আজম।
রোববার রামপুর এলাকায় একটি নির্বাচনী জনসভায় সাবেক মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি তাকে রামপুরে নিয়ে এসেছিলাম। আপনারা সাক্ষী আছেন, আমি কাউকে ছুঁতে পর্যন্ত দিইনি। আপনাদের তার প্রকৃত রূপ চিনতে ১৭ বছর লেগে গেল। কিন্তু আমি ১৭ দিনেই বুঝে গিয়েছিলাম, উনি খাকি অন্তর্বাস পরেন।’’
আজম যখন এই মন্তব্য করছেন, তখন মঞ্চে ছিলেন উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবও। কিন্তু তাকে প্রতিবাদ বা আজমকে থামাতে দেখা যায়নি।
এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে নানা মহলে। সোমবার সকালে আজম খানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ।
এ নিয়ে টুইটারে জয়া বলেন, ‘‘আমার কাছে এটা নতুন নয়। আপনারা জানেন, আমি ২০০৯ সালে তার দলেরই প্রার্থী হয়েছিলাম। কিন্তু উনি যখন আমার বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছিলেন, তখন কেউ আমার পাশে দাঁড়াননি। উনি কী বলেছিলেন, সেটা আমি মুখে উচ্চারণও করতে পারব না। আমি জানি না, আমি তার কী করেছি যে আমাকে নিয়ে এমন কথা বলেন।’’
একই সঙ্গে বলেন, ‘‘তাকে ভোটে লড়তে দেওয়াই উচিত নয়। কারণ, এই ব্যক্তি ভোটে জিতলে গণতন্ত্রের কী পরিণতি হবে? সমাজে নারীদের কোনো সম্ভ্রমই থাকবে না। আমরা তাহলে কোথায় যাব? আমি মরে গেলে আপনি খুশি হবেন? আপনি ভেবেছেন, আমি ভয় পেয়ে রামপুর ছেড়ে যাব? কিন্তু সেটা কখনোই হবে না।”
এ বিষয়ে জাতীয় নারী কমিশনের চেয়ারপারসন রেখা শর্মা জানান, নির্বাচন কমিশনে চিঠি লিখে আজম খানের প্রার্থী পদ বাতিলের অনুরোধ জানাবেন তারা।
অন্য দিকে আজম বলছেন, ‘‘ওই বক্তব্য আমি এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেছি, যিনি আমাকে খুন করার জন্য ১৫০ বন্দুক নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমার দলের নেতারাও ভুল করেছেন। এখন সেটা প্রমাণিত হয়েছে, যে ওই ব্যক্তি একজন আরএসএস সমর্থক, অর্থাৎ তার পরনে আরএসএস-এর খাকি হাফ প্যান্ট। হাফ প্যান্ট তো ছেলেরাই পরে।’’
জয়াপ্রদাকে লক্ষ্য করে আজম খানের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। বিজেপি এ নায়িকাকে প্রার্থী ঘোষণার পরই ‘নাচনেওয়ালি’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন আজম। এছাড়া জয়াপ্রদার কুরুচিকর ছবি বানিয়ে ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বিষয়টি উল্লেখ করে একটি জনসভায় কেঁদেও ফেলেছিলেন জয়াপ্রদা।