ঘটনাবহুল আইনস্টাইন

৬৪ বছর আগে আজকের এই দিনে পেটে প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আইনস্টাইন। চিকিৎসক জানালেন, একটি সার্জারি করলে তার জীবন শঙ্কামুক্ত। জবাবে মহাবিজ্ঞানী বললেন, ‘এক জীবনে আমার যা করণীয় তা আমি করে ফেলেছি। যা পাওয়ার পরিপূর্ণভাবে পেয়েছি। আমার যাওয়ার সময় হয়েছে। অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে আমি মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছি।’ এর দুদিন পর ১৮ এপ্রিল মৃত্যুকে বরণ করে নেন তিনি। গত সপ্তাহে ব্ল্যাক হোলের ছবি প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। কারণ ৫০ কোটি ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরের এই ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে আরও একশ বছর আগে তিনিই প্রথম ধারণা দিয়েছিলেন। তার জীবনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনা নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি

 

অঙ্কে ফেল করার তথ্যটি ভুল

স্কুলে যেসব শিশু অঙ্কে দুর্বল বহু বছর ধরেই তাদের যে সান্তনাটি দেওয়া হয়, তা হলো ‘আইনস্টাইনও অঙ্কে দুর্বল ছিলেন।’ কিন্তু এই তথ্যটি ভুল। রেকর্ড বলছে, ছোটবেলা থেকেই এই বিষয়টিতে তিনি বিশেষ জ্ঞান রাখতেন। জার্মানির মিউনিখে হাইস্কুলে পড়ার সময় শুধুমাত্র ‘ মেকানিক্যাল ডিসিপ্লিন’ বিষয়টিতে শিক্ষকদের সন্তুষ্ট করতে পারেননি সর্বকালের সেরা এই বিজ্ঞানী। ১৫ বছর বয়সে স্কুল ড্রপ হওয়ার যে গল্পটি প্রচলিত আছে, তার পেছনেও যথেষ্ট কারণ ছিল। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সে সময় সদ্য তরুণদের জার্মান সেনাবাহিনীতে যোগদান ছিল বাধ্যতামূলক। আইনস্টাইন এটি এড়ানোর জন্যই জার্মানি ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু এর আগ পর্যন্ত স্কুলের মেধাতালিকায় তিনি প্রথম সারিতেই ছিলেন। তার ম্যাথমেটিক্যাল জ্ঞান এবং বিজ্ঞান বিষয়ক নিজস্ব চিন্তাভাবনার জন্য সে সময় থেকেই অন্যরা তাকে বিশেষ সমীহ করত।

‘আইনস্টাইন গ্রেড-স্কুলে অঙ্কে ফেল করেছিলেন’ এমন একটি খবর যখন প্রকাশিত হয় ততদিনে আইনস্টাইনের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই আইনস্টাইন এর প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, ‘পনেরো বছর বয়সের আগেই ডিফারেনশিয়াল এবং ইনটেগ্রাল ক্যালকুলাসে আমি বিশেষ জ্ঞান লাভ করেছিলাম।’

প্রথম মেয়ে সম্পর্কে কেউ জানে না

১৮৯৬ সালে ১৭ বছর বয়সে আইনস্টাইন তার জার্মান নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন এবং সুইজারল্যান্ডের জুরিখে সুইস ফেডারেল পলিটেকনিক স্কুলে ভর্তি হন। সেখানেই তিনি মিলেভা মিরেকের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ হন। আইনস্টাইনের মতোই জিনিয়াস ছিলেন মিলেভা মিরেক। তিনি এক সাইবেরিয়ান নারী। জন্মেছিলেন ১৮৭৫ সালে। গণিত এবং পদার্থবিজ্ঞানে মিলেভা মেরিক ছিলেন তুখোড়। সে সময়টায় খুব কম নারীই নিজের মেধা প্রমাণের সুযোগ পেতেন। এই জুটি ১৯০৩ সালে বিয়ে করেন এবং গ্রাজুয়েশনের পর তারা দুটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু বিয়ের এক বছর আগেই একটি কন্যাশিশুর জন্ম দিয়েছিলেন মিরেক।

প্রেমিক যুগল তার নাম রেখেছিল লিসারেল। কিন্তু এই সন্তানের বিষয়ে আইনস্টাইন কখনোই কিছু বলেননি। এমনকি, তার জীবনীকারদের কাছেও এ সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দেননি। পরবর্তীকালে ১৯৮০ সালের পর প্রায় এক দশক ধরে তার বিভিন্ন দলিলে অনুসন্ধান চালিয়েও কন্যার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ব্যাপারটি এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। কোনো কোনো গবেষক বলেন, লিসারেল স্কারলেট ফিভারে আক্রান্ত হয়ে ১৯০৩ সালেই মারা গেছে। যদিও এর সঙ্গে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেন। তাদের দাবি, স্কারলেট ফিভার থেকে সেরে উঠেছিল। পরে তাকে মিরেকের দেশ সার্বিয়ার একটি পরিবারে দত্তক দেওয়া হয়েছিল।

চাকরি পেতে ৯ বছর অপেক্ষা

জুরিখ পলিটেকনিকে অসামান্য মেধার পরিচয় দিয়েছিলেন আইনস্টাইন। ১৯০০ সালে তিনি গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। কিন্তু উদভ্রান্ত স্বভাব আর ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতার জন্য তার শিক্ষকরা তার বিষয়ে সুপারিশ করতে অনাগ্রহী ছিলেন। আইনস্টাইন তার পলিটেকনিক স্কুলেই অধ্যাপনায় আগ্রহী ছিলেন। টানা দুই বছর চেষ্টার পর হাল ছেড়ে দিয়ে তিনি একটি সুইস প্যাটেন্ট অফিসে কেরানির কাজ শুরু করেন।

তবে, স্বল্প বেতনের এই কাজটি আইনস্টাইনের জন্য শাপেবর হয়েছিল। তার এখানে সারা দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় দিতে হতো। বাকি সময়টা তিনি ডুবে থাকতেন লেখালেখি আর গবেষণার কাজে। বলা হয়ে থাকে ‘১৯০৫’ সালটি আইনস্টাইনের জন্য একটি অলৌকিক বছর। ওই বছর তিনি চারটি যুগান্তকারী আর্টিকেল প্রকাশ করেছিলেন। ওই আর্টিকেলগুলোর একটিতে তিনি তার বিখ্যাত E=mc2 সূত্রটির ধারণা দেন। ওই বছরই পদার্থ বিজ্ঞানের বিশ্বমঞ্চে দোর্দ- প্রতাপে প্রবেশ করেন আইনস্টাইন। অবশেষে ১৯০৯ সালে জুরিখ পলিটেকনিক স্কুলে তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে কাজ শুরু করেন। গুনে গুনে নয় বছর!

নোবেল পাওয়ার আগেই এর অর্থ দিয়ে বিচ্ছেদ চুক্তি

১৯১০ সালের পর থেকেই আইনস্টাইন-মিরেক দম্পতির মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, সবকিছু ছেড়েছুড়ে আইনস্টাইন বার্লিনে চলে যান এবং সেখানেই তার কাজিন এলসার সঙ্গে প্রেম শুরু করেন। আইনস্টাইন-মিরেক দম্পতির মধ্যে পাকাপাকিভাবে বিচ্ছেদ হয় ১৯১৯ সালে। বিচ্ছেদের শর্ত অনুযায়ী, মিরেককে বাৎসরিক একটি ভাতা দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন আইনস্টাইন। এছাড়াও নোবেল পুরস্কারের অর্থ মিরেককে দিয়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন তিনি। মজার ব্যপার হলো তখন পর্যন্ত এই পুরস্কারটি পাননি আইনস্টাইন। তবে, এটি পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। এমন শর্তে রাজিও হয়েছিলেন মিরেক। বিচ্ছেদের তিন বছর পর ফটোইলেক্ট্রনিক ইফেক্টের ওপর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯২২ সালে নোবেল পুরস্কারটি পান আইনস্টাইন। শর্ত অনুযায়ী, পুরস্কারের একটি অংশ তিনি মিরেককে দিয়ে দেন। ততদিনে এলসাকে বিয়ে করে ফেলেছেন আইনস্টাইন। ১৯৩৬ সালের আগ পর্যন্ত এই জুটি অবিচ্ছেদ্য ছিলেন।

বিশ্বখ্যাতির নেপথ্যে সূর্যগ্রহণ

১৯১৫ সালে আইনস্টাইন তার থিওরি অব জেনারেল রিলেটিভিটি প্রকাশ করেন। আইনস্টাইনের তত্ত্ব অনুযায়ী, বক্র হয়ে যাওয়া স্থান-কালের মধ্য দিয়ে আলো কিছুটা বেঁকে যায়। সে অনুযায়ী, দূরের কোনো তারার আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে হলে সূর্যের পাশ দিয়ে আসার সময় বাঁকা পথে ঘুরে আসতে হবে। এটা ঠিক কি না, তা পরীক্ষা করে দেখার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দিনের বেলা তো আকাশের তারা দেখা যায় না। তাহলে কীভাবে পরীক্ষা করে দেখা যাবে যে তারার আলো বাঁকা পথ ঘুরে আসে কি না?

বিজ্ঞানীরা ভেবে দেখলেন, এটা পরীক্ষা করা সম্ভব সূর্য গ্রহণের সময়। তখন চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়। তাতে সে সময় তারার আলোর গতিপথ পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। কিন্তু পরবর্তী সূর্যগ্রহণের তারিখ ছিল ২৯ মে, ১৯১৯। একপ্রকার বাধ্য হয়েই বিজ্ঞানীরা সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকেন। নির্দিষ্ট দিনে সূর্যগ্রহণের সময় ইংলিশ জ্যোতির্বিদ আর্থার এডিংটন আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে অবস্থান করেন এবং সূর্যগ্রহণের ছবি তোলেন। ছবি তোলা হয় ব্রাজিল থেকেও। এসব ছবিতে বিজ্ঞানীরা অবাক বিস্ময়ে দেখতে পেলেন, সূর্যের পাশ দিয়ে দূরের তারার আলো আসার সময় সূর্যের মধ্যাকর্ষণ বল ১.৭ আর্ক-সেকেন্ড বাঁকিয়ে দিয়েছে। এতেই প্রমাণিত হলো, আইনস্টাইনের তত্ত্ব সঠিক। এভাবে আইনস্টাইনের যুগান্তকারী আবিষ্কার জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি বাস্তবে প্রমাণিত হয়। এই খবরে রাতারাতি বিশ্বখ্যাত তারকায় পরিণত হন আইনস্টাইন। সংবাদপত্রগুলো তাকে আইজ্যাক নিউটনের মতো এক নায়ক বলে অভিহিত করে তাকে। এর পর থেকেই তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমন্ত্রিত হতে থাকেন মহাবিশ্ব সম্পর্কে তার থিওরিগুলোর ওপর লেকচার দেওয়ার জন্য। আইনস্টাইনের জীবনী লেখক ওয়ালটার আইজ্যাকসন উল্লেখ করেন, ১৯১৯ সালের সূর্যগ্রহণের পর মাত্র ছয় বছরের মধ্যেই থিওরি অব রিলেটিভিটির ওপর প্রায় ছয় শতাধিক বই প্রকাশিত হয়।

এফবিআইর নজরদারিতে দুই দশক

১৯৩৩ সালে হিটলার চূড়ান্ত ক্ষমতায় আসার আগে আগে আইনস্টাইন বার্লিন ছেড়ে আমেরিকায় গমন করেন এবং নিউজার্সির প্রিন্সটনে ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিতে কাজ শুরু করেন।

শান্তিবাদী, সিভিল রাইটস এবং বামপন্থিদের প্রতি সমর্থনের জন্য আমেরিকায় পা দেওয়ার আগে থেকেই মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থা এফবিআই-এর প্রধান জন এডগার হুভারের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন আইনস্টাইন। আমেরিকায় সমুদ্রতীরে পা ফেলার পর থেকেই এফবিআই কর্মকর্তাদের নজরদারির কবলে পড়েন তিনি। এই নজরদারি অন্তত টানা ২২ বছর ধরে চলেছিল। এই সময়ে পদার্থবিজ্ঞানীর কাছে আসা সকল টেলিফোন কলই আড়ি পেতে শুনতেন এফবিআই এজেন্টরা। শুধু তাই নয়, তার চিঠিও নজরদারির আওতায় রেখেছিল এফবিআই। তাদের ধারণা ছিল আইনস্টাইন হয়তো একজন সোভিয়েত স্পাই। ডেথ রে নিয়ে তার কাজকে যথেষ্ট সন্দেজনকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিল এফবিআই। বলা বাহুল্য, টানা ২২ বছর নজরদারি করলেও ফলাফল ছিল একেবারে শূন্য। যদিও ১৯৫৫ সালে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তাকে নিয়ে এফবিআই অনুসন্ধানের দলিলটি ছিল আঠারো শ পৃষ্ঠার।

অ্যাটম বোমার প্রতিক্রিয়া

ঊনিশ শতকে ত্রিশের দশকের শেষ দিকে আইনস্টাইন অবগত হন যে, জার্মান বিজ্ঞানীরা এটম বা আণবিক বোমা তৈরি করার প্রয়াশ চালাচ্ছে। নাজিদের হাতে এই মারণাস্ত্র ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এমন সম্ভাবনায় আণবিক বোমা বানাতে মরিয়া পুরনো বন্ধু হাঙ্গেরিয়ান বিজ্ঞানী লিও জিলার্ডের সঙ্গে ঐক্যমত্যে পৌঁছান। জিলার্ডের প্ররোচনায়ই মূলত তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের কাছে আণবিক বোমা নিয়ে গবেষণা করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে একটি চিঠিও লিখেছিলেন আইনস্টাইন। এই চিঠির সূত্র ধরেই আণবিক বোমা তৈরির জন্য ‘ম্যানহাটন প্রজেক্ট’-এর অনুমোদন দেন রুজভেল্ট। তবে, এই প্রজেক্টের সঙ্গে আইনস্টাইনের সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিল না। তবুও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে আমেরিকা অ্যাটম বোমা দিয়ে জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহর উড়িয়ে দিলে তীব্র অনুশোচনায় ভুগেছিলেন আইনস্টাইন। নিউজ উইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘যদি আমি জানতাম যে, জার্মানি পারমাণবিক বোমা তৈরিতে সফল হবে না, তবে কখনোই এ ব্যাপারে আমি আগ্রহ দেখাতাম না।’ পরবর্তী জীবনে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, অস্ত্র পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ ছাড়াও একটি শান্তিপূর্ব বিশ্বব্যবস্থা স্থাপনের জন্য তিনি বিরামহীন কাজ করে যান। ১৯৫৫ সালে মৃত্যুর কিছুদিন আগেই বিখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তিনি ‘রাসেল-আইনস্টাইন ম্যানিফেস্টো’ নামে একটি প্রচারপত্রে স্বাক্ষর করেন। ওই প্রচারপত্রটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি করা হয়, যেখানে পারমাণবিক যুদ্ধের ভয়াবহতা ও এর ফলাফল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। প্রচারপত্রে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়, সকল সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করার জন্য।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব

প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাসী না হলেও নিজের স্বজাতি ইহুদিদের সঙ্গে একটি ঐতিহ্যগত সম্পর্ক অনুভব করতেন এবং প্রায় ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। ইহুদিদের সঙ্গে এত মাখামাখি না থাকলেও ১৯৫২ সালে ইসরায়েলের রাষ্ট্রপ্রধান চাইম ওয়াইজম্যান মারা যাওয়ার পর আইনস্টাইনকে দেশটির দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট হওয়ার আহ্বান জানায় ইসরায়েল সরকার। কয়েকদিন পর ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি চিঠিতে আইনস্টাইন লেখেন, ‘সারা জীবন আমি অবজেক্টিভ ব্যাপারগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করেছি। তাই আমার মধ্যে কিছু অস্বাভাবিকতাও আছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে হয় এবং কীভাবে অফিশিয়াল কাজ সামলাতে হয় সে সব বিষয়ে আমার জ্ঞান সীমিত।’

মৃত্যুর পর ব্রেইন চুরি

১৯৫৫ সালের এপ্রিল মাসে মৃত্যুবরণ করেন আইনস্টাইন। মৃত্যুর পর তার শরীরটিকে পুড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার মৃত্যুর পর একটি অঘটনের জন্ম দেন প্রিন্সটনের প্যাথলজিস্ট থমাস হার্ভি। শবদেহের ময়নাতদন্ত করার সময় আইনস্টাইনের মাথার ভেতরের মগজটুকু চুরি করে রেখে দেন। তিনি আশা করেছিলেন, এ থেকে এই মহামানবের মেধার রহস্য জানা যাবে। পরবর্তী সময়ে তিনি এই মগজের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন বিজ্ঞানীর কাছে গবেষণার জন্য প্রেরণ করেন। এই মগজ নিয়ে উনিশ শতকের ৮০’র দশক জুড়ে অনেক গবেষণা হয়। এসব গবেষণায় নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য গবেষকরা দিতে পারেননি। তবে, ১৯৯৯ সালে আইনস্টাইনের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে আলোচিত একটি তথ্য প্রদান করে কানাডিয়ান এক বিশ্ববিদ্যালয়। বহু বিতর্কিত ওই গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়, আইনস্টাইনের মস্তিষ্কের প্যারিয়েটাল লোব নামের একটি অংশ সাধারণ মস্তিষ্কের তুলনায় ১৫শতাংশ প্রশস্ত ছিল। এ অংশটিই গণিতের মতো জটিল বিষয়গুলো বুঝতে সাহায্য করে।