অবহেলায় ঔষধি বাগান

দেড় বিঘার বাগানটিতে রয়েছে নিম, নিশিন্দা, বাসক, অর্জুন, আকন্দ, তুলসিসহ ৪০ প্রজাতির গাছ। ঔষধি ও ভেষজ গুণসমৃদ্ধ গাছগুলো শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষায় অতিপ্রয়োজনীয় হলেও বাগানটি পড়ে আছে অবহেলায়। চারপাশে আগাছা জন্মে জঙ্গলের মতো হয়ে গেছে। বাগানের সামনের জায়গায় জমেছে আবর্জনার স্তূপ। সরেজমিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফার্মেসি বিভাগের ঔষধি বাগানের এ চিত্র দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা তৈরি হলেও দেখার যেন কেউ নেই। কর্র্তৃপক্ষ বলছে, লোকবল ও অর্থ সংকটের কারণে সঠিকভাবে এর পরিচর্যা করা সম্ভব হচ্ছে না।

১৯৯২ সালে ড. মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা একাডেমিক ভবনের উত্তর পাশে ফার্মেসি বিভাগের বাগানটি করা হয়। অরক্ষিত হওয়ায় স্থানীয় কবিরাজসহ অন্যরা বিভিন্ন গাছ তুলে নিয়ে যান। এতে ব্যবহারিক কাজের জন্য প্রায়ই শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় গাছ খুঁজে পান না।

ঘুরে দেখা দেখা গেছে, বাগানের চারপাশে বিভিন্ন জায়গায় আগাছা জন্মেছে। দীর্ঘদিন ধরে এর পাশে আবর্জনা ফেলে স্তূপ করেছে স্টুয়ার্ড শাখার কর্মীরা। গত সপ্তাহে বেশ কয়েকদিন কর্মচারীদের সেখানে আবর্জনা ফেলতে দেখা যায়। পাশেই ডাস্টবিন থাকতে এখানে কেন আবর্জনা ফেলছেন জানতে চাইলে ছোট একটি গর্ত দেখিয়ে একজন বলেন, ‘ময়লা ফেলে গর্তটি ভরাট করছি।’

ফার্মেসি বিভাগ জানায়, বাগানটি দেখাশোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুজন মালি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বছর দেড়েক আগে একজনকে অন্য শাখায় স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে একজন মালি দিয়েই চলছে বাগানের পরিচর্যা। আবদুল আজিজ নামে ওই কর্মী বলেন, ‘বাগান থেকে আমাদের অজান্তে অনেকেই গাছের ছাল, কখনো গাছও তুলে নিয়ে যায়। বাগান ঘেঁষে আবর্জনা ফেলতে কর্মীদের নিষেধ করলেও তারা শোনেনি।’

জানতে চাইলে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা স্টুয়ার্ড শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার নব কুমার সরকার বলেন, ‘বাগানের সামনে আবর্জনা ফেলার বিষয়টি জেনে কর্মচারীদের নিষেধ করেছি। এগুলো শিগগির পরিষ্কার করা হবে।’ ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আকতার উজ্জামান চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাগানটিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে অতীতে প্রশাসনকে বেশ কয়েকবার জানিয়েও লাভ হয়নি। বিভাগের অর্থায়নে এত বড় জায়গায় দেয়াল নির্মাণ সম্ভব নয়।’ আবর্জনার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘শিগগির সংশ্লিষ্টদের বলে এসব সরানোর ব্যবস্থা করব।’